খোদ বন কর্মকর্তা নিজেই সুন্দরবনের কর্তননিষিদ্ধ সুন্দরীগাছ কাটার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খাঁন গত বুধবার দুপুরে বনের ঘাগরামারী এলাকা হতে কর্তননিষিদ্ধ সুন্দরী ও কাঁকড়াগাছ কেটে তা পাচার করছিলেন। গাছ পাচারের সঙ্গে জড়িত তিন পাচারকারী সনজিত্, তরুণ ও পঙ্কজ তাত্ক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারও করেছেন বিষয়টি। গাছ পাচার কাজে ব্যবহার করা হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারও।
এদিকে অভিযুক্ত ঐ বন কমকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈন উদ্দিন খাঁন। তিনি বলেন, তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এসও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন আবার এ তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. এনামুল হককে। মো. এনামুল হক বলেন, তিনি এরই মধ্যে তদন্তকাজ শুরু করেছেন। আগামী রবিবার, সোমবারের মধ্যে তিনি এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
এদিকে এ ঘটনায় বনবিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, এ সংক্রান্ত ভিডিও এবং সংবাদ পেয়েছি, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
গাছ কাটার ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ বলেন, বনবিভাগের অসাধু কর্তাব্যক্তিদের সহযোগিতায় বনের গাছ কেটে পাচার হচ্ছে, যা প্রত্যক্ষভাবে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় সুন্দরবন রক্ষায় বনবিভাগ পুরোপুরি ব্যর্থ, কাজেই এই বনকে রক্ষা করতে হলে বনবিভাগের ওপর আস্থা না রেখে সরকারের উচিত বিশেষ নজরদারি করা।
