‘হে নূতন,/ দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ/ তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন সূর্যের মতন।’
নিজের জন্মদিন পঁচিশে বৈশাখকে এভাবেই ডাক দিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মহাকালের যাত্রায় ব্যতিক্রমী এক ‘রবি’র কিরণে উজ্জ্বল এই পঁচিশে বৈশাখ। ১৮৬১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সরকারি পর্যায়ে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। এছাড়া ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে মঞ্চে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী ও গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। বাঙালি সমাজে তার রচিত সংগীতের জনপ্রিয়তা এত বছর পরেও তুলনাহীনভাবে বাড়ছে। তিনি ২ হাজার গান রচনা করেন। অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেন। তার সমগ্র গান ‘গীতবিতান’ গ্রন্থে রয়েছে। কবির লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতটিও কবির লেখা। জীবিতকালে তার প্রকাশিত মৌলিক কবিতাগ্রন্থ হচ্ছে ৫২টি, উপন্যাস ১৩, ছোটগল্পের বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মত্যুর পর বিশ্বভারতী থেকে ৩৬ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী ’ প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া ১৯ খণ্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র’। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্মের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে।
এদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘ওই মহামানব আসে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে অনুষ্ঠানটি http://www.bit.ly/chhayanaut ঠিকানায়।
অন্যদিকে, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। আয়োজনটি আইজিসিসির ফেসবুকের পেইজে (https://www.facebook.com/IndiraGandhiCulturalCentre) সম্প্রচার করা হবে।
