বাংলাদেশের সঙ্গে সড়কপথে বাণিজ্য শুরু করার নির্দেশ নয়াদিল্লির, নারাজ পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০০:২৫

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত পথে বাণিজ্য শুরু করার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ দিলেও তাতে নারাজ পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর কারণ ‘করোনা-আতঙ্ক’।

ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহাকে চিঠি দিয়ে জানতে চান, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ট্রাক ঢোকার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এটা না করায় আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। বলা হয়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনের জন্য গত ২৪ এপ্রিল অনুমতি দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-নেপাল, ভারত-ভুটান সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করা যাবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের রাজ্যের সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন এখনো শুরু করেনি। এর ফলে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক বিভিন্ন বর্ডার পোস্টে আটকে রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশে যে সব ট্রাক ও তাদের ড্রাইভার পণ্য সরবরাহ করতে গিয়েছিলেন, তারাও সীমান্তের ওপারে আটকে রয়েছেন। তাদের ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার এমনটি করছে বলে জানা গেছে।

১ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য আটকাতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক তরফাভাবে সীমান্ত বরাবর বাণিজ্যের পথে যেভাবে বাধা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক চুক্তি রূপায়ণের ক্ষেত্রে ভারত সরকারকে সমস্যায় ফেলছে। এসব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি আইনত সিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ শুধু বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের শর্ত লঙ্ঘন করছে তাই নয়, সংবিধানের ২৫৩, ২৫৬ ও ২৫৭ ধারার লঙ্ঘনও করা হচ্ছে।’ তাই অবিলম্বে সীমান্ত বরাবর বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতেও বলা হয়েছে।

কিন্তু এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করতে গিয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়লে এর দায় কে নেবে?