প্রণোদনা প্যাকেজ

দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে সরকারি ব্যাংকগুলোকে তাগিদ

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০০:২৭

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সরকারি ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। এজন্য বেশ কিছু করণীয় বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় বিতরণযোগ্য এ অর্থের কোনোভাবেই যেন অনিয়ম বা এক খাতের ঋণ আরেক খাতে চলে না যায় সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আর করোনায় ব্যাংকগুলোর ক্ষয়-ক্ষতিও কী তাও জানাতে বলা হয়েছে। গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলামের সঙ্গে সরকারি ব্যাংকগুলোর অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব আলোচনা হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাংকগুলোর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি, আগামীদিনের প্রস্তুতি, সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্যাকেজ বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা নিরসনে সুপারিশ প্রণয়ন বিষয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে এসব বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়। বৈঠকের বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলো কিভাবে কাজ করছে, সরকারি নির্দেশনার আলোকে প্রণোদনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সামনের দিনে কীভাবে এগোতে হবে এসব বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনার টাকা কোন্ ব্যাংক কতো বিতরণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক তা ঠিক করে দিয়েছে। সে আলোকে কার্যক্রম করা হবে।

জানা গেছে, সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় শিল্প ও সেবা এবং সিএমএসএমই খাতে কোন্ ব্যাংক কতো টাকা বিতরণ করবে এরই মধ্যে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনা ভাইরাসের সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প ও সেবাখাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। এর অর্ধেক মাত্র ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার সিএমএসএমইতে ৫ শতাংশ এবং শিল্প ও সেবাখাতে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার। এক্ষেত্রে কোন্ ব্যাংক কতো টাকা বিতরণ করবে ব্যাংকগুলোর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক ঋণ স্থিতির আলোকে তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাংকগুলোর আয় কিছুটা কমবে বলে বৈঠকে এমডিরা জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে একজন কর্মকর্তা ১০ দিন অফিস করলেই এক মাসের মূল বেতনের সমান দিতে হচ্ছে। রোস্টারিং ভিত্তিতে অধিকাংশ কর্মকর্তাকে এ সুবিধা দিতে গিয়ে ব্যাংকের খরচ অনেক বেড়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলোতে বেশি খরচ হবে। কেননা সরকারি চালান, বেতন, ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কারণে এসব ব্যাংকের বেশিরভাগ শাখা খোলা রাখতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, বেতন দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর খরচ বাড়বে। সে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এছাড়া প্রণোদনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে আসতে চাইবে না। সে ক্ষেত্রে যেন এসব ব্যাংকের অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ কীভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে বলা হয়েছে। আর কৃষি ব্যাংক যেহেতু কৃষিঋণ বেশি দেয় এ কারণে সেটা দ্রুত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।