ইত্তেফাক বাংলাদেশের প্রাচীনতম খবরের কাগজই নয়, খবরের কাগজের আইডল বললেও কম বলা হয়। ইত্তেফাকের সঙ্গে জড়িত এক মহান কারিগরের অস্তিত্ব—সাংবাদিকতার প্রাণপুরুষ ও রাজনীতির উপদেষ্টা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। বঙ্গবন্ধুও যাঁকে শ্রদ্ধা ও সমীহ করতেন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সৃষ্টির বীজ বপনে মানিক মিয়া ও ইত্তেফাকের উদার হাত চিরদিন খোলা ছিল। যদিও মানিক মিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখেননি। ১৯৬৯ সালেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে মানিক মিয়ার কলমের আঁচড় রয়েছে। আমার জন্ম ১৯৭০ সালে। আমি শৈশব থেকেই ইত্তেফাকের সঙ্গে পরিচিত। আব্বা ইংরেজি কাগজ পড়তেন, ইত্তেফাকও। ইত্তেফাকের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা পড়ছিলাম। একটি সংবাদপত্রের ৬৬ বছরের পথচলা। কতোটা আবেগ ভালোবাসা আনন্দ-বেদনার সংমিশ্রণে কাটিয়েছে তা তো কাগজটায় তাকালেই অনুভূত হয়। একটি কাগজের ঠিকানা একটি এলাকা ইত্তেফাকমোড় হিসেবে পরিচিতি পাওয়া [যদিও ইত্তেফাক এখন কাওরানবাজারে] কম কথা নয়। ছাত্র বয়সে দেখতাম গ্রামাঞ্চলে খবরের কাগজ মানেই ইত্তেফাক। মানুষজন ইত্তেফাকের নামটাই বলত। ইত্তেফাক বিজ্ঞাপনে ভরপুর সেটা ছোটবেলায় যেমন দেখেছি, এখনও দেখছি। শহরের কথা বলতে পারব না। গ্রামাঞ্চলের মানুষ ইত্তেফাককে সম্মান করত ভয়ও পেত। ইত্তেফাক মানেই অন্যকিছু; ইত্তেফাক মানেই সাংবাদিকতার আদর্শের প্রতীক। গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সংবাদপত্র। ইত্তেফাক সবসময়ই গ্রামাঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ তুলে ধরতে বেশি পৃষ্ঠা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। গ্রামভিত্তিক পাঠকের ভালোবাসায় ইত্তেফাক চিরদিনই সিক্ত।
মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু
উত্তরা, ঢাকা
