চীনের প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী ওয়াং কুয়ানঝাংকে শেষ পর্যন্ত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো। ২০১৫ সালে চীনা সরকারের এক অভিযানে দুশ আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। কিন্তু তখন তার খবর গণমাধ্যমে আসেনি। কেননা সে সময়ে তাকে নিখোঁজ হিসাবেই দেখানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার এ বিচারকে ‘লজ্জাজনক’ বলে এর নিন্দা জানিয়েছে।
ওয়াং কুয়ানঝাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আর এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আরো অভিযোগ চীনের নিষিদ্ধ আধ্যাত্মিক আন্দোলন ‘ফালুন গং’ এর অনুসারীদের পক্ষ হয়ে কাজ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে সুইডেনের মানবাধিকার কর্মীদের হয়ে কাজ করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাকে তিয়ানজিনের একটি আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তার মামলার শুনানি চলছে। ওইদিন মামলার শুনানি চললেও বাইরে সমর্থকরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। পরে অবশ্য পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এ দিকে কুয়ানঝাংয়ের স্ত্রী লি ওয়েনজু অভিযোগ করেন, পুলিশ তার বেইজিংয়ের বাড়িটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমনকি তাকে আদালতেও যেতে দেয়নি। গত মাসে লি তার স্বামীর মুক্তির দাবিতে নিজের মাথা ন্যাড়া করে অভিনব প্রতিবাদ করেন। শুধু তিনি নন, এ ধরনের প্রতিবাদে আটক আরো অনেকের স্ত্রী একই পন্থা অবলম্বন করেছিলেন। সে সময়ে লি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, তার স্বামীর মুক্তি না হলে তিনি ঘরে ফিরবেন না। প্রথম দিকে যখন তার স্বামীর কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না সে সময়েও তিনি ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ করেছিলেন। একশ কিলোমিটারেরও বেশি পদযাত্রা করেছিলেন তিনি। বেইজিং থেকে তিয়ানজিনের অভিমুখে পায়ে হেঁটে সে যাত্রা শুরু করেন। কেননা তখন ধারণা করা হচ্ছিল তার স্বামীকে তিয়ানজিনেই আটক রাখা হয়েছে।
ওয়াং কুয়ানঝাংয়ের মুক্তির দাবিতে এখনো সেখানে বিক্ষোভ চলছে। প্রায় প্রতিদিনই আন্দোলনকারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, চীন সরকার এভাবে কোনো মানবাধিকার কর্মীকে আটক রাখতে পারে না। এর মাধ্যমে সরকার ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা টিপে হত্যা করছে। ইয়াং চুনলিন নামে অপর এক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা চাই এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থা থেকে পরিত্রাণ। কেননা এ অবস্থাকে কোনোক্রমেই আমরা সমর্থন করতে পারি না। আমরা কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চাই না। কিন্তু অন্যায়ভাবে কাউকে গুম বা গ্রেফতার করা হবে তাও কখনো কাম্য হতে পারে না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে, ওয়াংকে আটকের তিন বছরেরও বেশি সময় তার কাছে কোনো আইনজীবীকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্থানীয় ল’ফার্ম ফেনগুরি জানায়, চীনে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে একটি স্বীকৃত নাম ওয়াং কুয়ানঝাং। অথচ আজ তাকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হচ্ছে।
