এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনায় করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে মার্কেট খুলতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রবিবার থেকে খুলনায় মার্কেট খুলছে। তবে, জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে অনেক মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।
খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন দোকান মালিক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় গত ২৬ এপ্রিল থেকে সরকারের সিদ্ধান্তে সারাদেশের মতো বাণিজ্যিক ও শিল্পনগরী খুলনার বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনতে গুনতে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে তারা মার্কেট কর্তৃপক্ষকে দোকানপাট খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে সরকার আগামীকাল রবিবার থেকে মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় করোনা আতঙ্কে অনেক দোকানমালিক দোকান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। অনেক ব্যবসায়ী সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি দেখে আজ শনিবার দোকান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
নগরীর এশা চেম্বারের ম্যাস ফ্যাশনের প্রোপাইটার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দোকানপাট খোলার পর এ ভাইরাস আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঈদের আগে আমার দোকান খুলব না। তিনি বলেন, মানুষের জীবনের থেকে আর কিছু বড়ো নয়। সরকার ইচ্ছা করলে ঈদের পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারত।
নগরীর জলিল টাওয়ারের কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, আমরা ১০ মে থেকে আমাদের কম্পিউটার মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, দোকানদাররা হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। এছাড়া ক্রেতাদের জন্য মার্কেটের গেটে জীবাণুনাশক ও হাত ধোয়ার জন্য সাবানের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া দোকানগুলোতে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে।
খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস আনাম উল হোসেন বলেন, খুলনা শপিং কমপ্লেক্সে গার্মেন্টস, মোবাইল, ক্রোকারিজ, মোবাইল সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২০০ দোকান রয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে দোকানগুলো বন্ধ। ফলে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ মার্কেট খোলার ব্যাপারে দোকানদার ও কর্মচারীদের ভীষণ চাপে রয়েছে। তারপরও আমরা মার্কেট খোলার ব্যাপারে খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি।
খুলনা নিউমার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গফফার বিশ্বাস বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নিউমার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, ইতিমধ্যে আমরা প্রত্যেক মার্কেট কর্তৃপক্ষকে বলে দিয়েছি, প্রত্যেকটি মার্কেটের দোকানপাট খোলার আগে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। কোনো দোকানের কর্মচারী হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক ছাড়া থাকবে না। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতার কাছে কোনো ধরনের পণ্য বিক্রি করা যাবে না। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কেউ যদি এগুলো করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তার দোকান অথবা মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
