সতর্কতায় ছাড় দিলেই বিপদ!

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ২২:০৪

কয়েক দিন আগে ইতালিতে যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তুঙ্গে, তখন সেই দেশের একজন চিকিত্সক সংবাদমাধ্যমকে বলিয়াছিলেন, এই ভাইরাসের সংক্রমিত করিবার ক্ষমতা কত ভয়াবহ তাহা যদি মানুষ জানিত, তাহা হইলে ঘরের জানালা দিয়া উঁকি দিবারও সাহস করিত না। সত্যিই দিন যত গড়াইতেছে, এই ভয়াবহতা আমরা অধিক উপলব্ধি করিতেছি। তাহার প্রকৃষ্ট উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্যালেট একজন নৌবাহিনীর সদস্যের কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়া। ইংরেজি ভ্যালেট শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ খানসামা অথবা সাজভৃত্য। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই খানসামাগণ কিন্তু অবহেলিত বা সাধারণ মানুষ নহেন। তাহারা প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। মার্কিন নেভির কর্মকর্তা ঐ খানসামা প্রেসিডেন্টের খাবার তদারকিতে নিয়োজিত ছিলেন। আমরা জানি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর বা বাসস্থান এমনিতেই বিশ্বের সবচাইতে নিরাপদ একটি স্থান। সেইখানে পিঁপড়া ঢুকিতে হইলেও সম্ভবত অনুমতি লইতে হয়! সাধারণ সময়ে ৫৫ হাজার স্কয়ার ফুটের হোয়াইট হাউজের ১৩২টি কক্ষ ও ৩৫টি বাথরুম পরিচ্ছন্ন রাখিতে, সাজাইয়া রাখিতে রাষ্ট্রকে বত্সরে খরচ করিতে হয় ১৩ মিলিয়ন ডলার। অথচ সকল প্রকারের সতর্কতা উপেক্ষা করিয়া ঢুকিয়া পড়িয়াছে ভাইরাস! এই আক্রান্তের সংবাদে বিস্মিত হইয়া গিয়াছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলিয়াছেন, ‘আমি একটু বিস্মিত হইয়াছি। হোয়াইট হাউজের সকলেই মাস্ক ব্যবহার করিতেছে। আমরা সকলেই একসঙ্গে যুদ্ধ করিতেছি।’

এতদিন এই হোয়াইট হাউজে প্রতি সপ্তাহে একবার করোনা পরীক্ষা চলিতেছিল। কিন্তু ঐ খানসামার কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার হইতে প্রত্যেকের প্রতিদিন পরীক্ষার নিয়ম চালু হইয়াছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী প্রশ্ন উঠিয়াছে, তাহা হইলে হোয়াইট হাউজ কি এখন করোনায় আক্রান্ত? প্রশ্ন উঠিয়াছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি অ্যারিজোনায় যে মাস্ক তৈরির কোম্পানি দেখিতে গিয়াছিলেন, তখন তিনি কি পূর্বসতর্কতা অবলম্বন করিয়াছিলেন? খোদ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন  প্রশ্ন তুলিয়াছে, যখন হাজার হাজার আমেরিকান মৃত্যুবরণ করিতেছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ট্রাকে লাশ রাখিতে হইতেছে, অস্থায়ী মর্গে লাশ পড়িয়া থাকিতেছে, তখন তিনি কেন প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং লইয়া ব্যস্ত আছেন, যাহা হোয়াইট হাউজকে আক্রান্তের সম্ভাবনা বাড়াইতেছে?

সে যাহাই হউক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবনের এই আক্রান্তের ঘটনা আবারও আমাদের সতর্ক করিয়া গেল, এই ভাইরাস প্রতিরোধ করিতে হইলে সামান্য সময়ের জন্য অসতর্ক হইবার কোনো সুযোগ নাই। ইহা ঢুকিয়া পড়িতে পারে সর্বোচ্চ নিরাপদ স্থানেও। তাহার পরও সর্বোচ্চ সতর্কতা আক্রান্তের সম্ভাবনা কমাইবে, ইহাতে সন্দেহ নাই।