অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিই ভরসা

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ২২:০৮

অলোক আচার্য

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ ভাইরাস মহামারিতে সবকিছুতে পরিবর্তন এসেছে। জীবনযাত্রার অভ্যাস থেকে শুরু করে খাদ্যাভাসেও। করোনা পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, যা কোনোভাবেই একা কোনো দেশ সামাল দিতে পারবে না। প্রয়োজন হবে অন্য দেশের সাহায্যের। মূল আঘাতটা আসবে অর্থনীতির ওপর। বন্ধ হয়ে রয়েছে সব কলকারখানা। স্থবির অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরানো বেশ চ্যালেঞ্জের কাজ। অন্য একটি সমস্যা হলো বেকারত্ব। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, করোনাক্রান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে তাতে ৩৩০ কোটি কর্মক্ষম মানুষ আংশিক বা পুরোপুরি বেকার হয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের এই সহযোগী সংগঠন বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন সংকট আর আসেনি।

করোনা পরবর্তী বিশ্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য একটি ভয়াবহ সমস্যা হবে। জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি জানিয়েছেন, বিশ্বের ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে ১০টি দেশের ১০ লাখ মানুষ এখনই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ইউএন ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের এক রিপোর্টমতে, করোনা মহামারির সবচেয়ে প্রভাব পড়েছে খাদ্য  সুরক্ষার ওপর। বিশ্বের অন্তত ৮২টি দেশে পুরোপুরি অথবা আংশিক লকডাউন চলছে। এ কারণে কর্মচঞ্চল পৃথিবী স্থবির। কোনো কোনো দেশ আবার  অর্থনীতি বাঁচাতে লকডাউন আংশিকভাবে তুলে দিয়েছে বা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ডব্লিউএফপি বিশ্বে বড়ো ধরনের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। আসন্ন এই সংকট মোকাবিলায় প্রথমেই কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, সেইসঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে উত্পাদন। খাদ্যশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি, মাংস, মাছ, পোল্ট্রিশিল্প সবক্ষেত্রেই উত্পাদন বেড়েছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারিতে সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে আমাদের কৃষিতে মনোনিবেশ করতে হবে।

কৃষিকে গুরুত্ব দিলেই আমাদের মন্দা বা দুর্ভিক্ষ খুব বেশি আঘাত করতে পারবে না। আগাম বন্যা ক্ষতি না করলে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। বিপুল পরিমাণ ফসল কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবে। সরকার কৃষিতে চার শতাংশ সুদে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে। সারের জন্য নয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সাহায্য করে বেশি ফসল উত্পাদনে ভূমিকা রাখবেন। আমাদের দেশের কৃষিপণ্য বিশ্বের ১২১টি দেশে রপ্তানি হয়। করোনার কারণে মন্দাভাব বিরাজ করছে। যখন করোনার প্রভাব কমে যাবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে তখন এসব কৃষিপণ্য আমাদের অর্থনীতিকে সবল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশ ফুলে ফলে ও ফসলে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছর একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৭২ প্রজতির ফল চাষ হচ্ছে। ফুল চাষ হচ্ছে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। পাঁচ বছরে সবজি উত্পাদন বেড়েছে ৩১ শতাংশ। ১৬টি মসলার ৩৬টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। অর্থাত্ প্রতি বছরই কৃষিক্ষেত্রে উত্পাদন বাড়ছে। আমাদের কৃষির এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও খাদ্য সংকটকে মোকাবিলা করতে পারি সহজেই।

পাবনা