দ্রুত সেন্ট্রাল ফেরিঘাট চালুর দাবি
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
করোনা পরিস্থিতির কারণে নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ফেরিঘাট বন্ধ রাখায় চরম দুভোর্গের শিকার বন্দরবাসী। কোনো রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিকল্প পন্থায় মাঝিরা মাছঘাট দিয়ে নৌকা চালালেও নিরুপায় হয়ে করোনা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পারাপর হতে হচ্ছে। এদিকে দেশে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হলেও সেন্ট্রাল ফেরিঘাট এখনো লকডাউন করে রাখা হয়েছে। বন্দরবাসীর দাবি, ফেরিঘাট চালু করে পারাপারের জন্য ট্রলার সংখ্যা বাড়ালে মানুষ কিছু হলেও দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে পারবে। এ জন্য দ্রুত ঘাট চালুর জন্য সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বন্দরবাসী।
এদিকে এখন বিকল্প পারাপারে কোনো প্রকার নিয়মকানুনই মানা হচ্ছে না শহর সংলগ্ন গুদারাঘাটগুলোতে। ৫ টাকার স্থলে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। অথচ নৌকায় বোঝাই করে মানুষ পারাপারে নেই পা রাখার জায়গা। গতকাল শহরসংলগ্ন ঘাটগুলোতে দেখা যায় এমন চিত্র। গতকাল দুপুরে বন্দর খেয়াঘাটে দেখা যায়, মূল জেটি থেকে পঞ্চাশ থেকে একশত ফুট দূরে নোংরা এলাকায় ভিড়ছে নৌকা। সেখানে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে কিন্তু আরোহী নেওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ জন। কোন প্রকার জেটি না থাকায় নৌকায় উঠতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। গা ঘেষাঘেষি করে নৌকায় লোক নিচ্ছেন মাঝি।
বন্দর গুদারাঘাটের তুলনায় আশপাশের অন্যান্য ঘাটগুলোতে লোকসংখ্যা কিছুটা কম হলেও সতর্কতার অবজ্ঞা একই চিত্র। বন্দর ঘাটের আরমান নামের এক যাত্রী জানান, তিনি একজন দর্জি। সেলাই মেশিন ঠিক করানোর জন্য শহরে গিয়েছিলেন। মেশিন নষ্ট থাকায় তার দর্জি কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। মেশিন ভালো থাকলে কম-বেশি কিছু উপার্জন হয়। তা না হলে সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব।
তিনি বলেন, এখন তো লোক কম। সকালে এখানে দাঁড়ানোর মতোও জায়গা ছিল না। ডুবু ডুবু করে লোক উঠেছে নৌকায়। তার পরও ভাড়া কম নেননি মাঝি। করোনার সতর্কতার কথা তিনি জানেন। কিন্তু টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা করতে না পারলে তার পরিবারের না খেয়ে থাকতে হবে। এ বিষয়ে জি এম মাসুদ নামে একজন বলেন, ঘাটগুলোর পারাপার খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। অথচ ভাড়াও নিচ্ছে জনপ্রতি ১০ টাকা। নৌকাগুলো জেটিতে না ভেড়ানোর কারণে লোকজনের উঠতে-নামতেও কষ্ট হচ্ছে। তার উপর করোনা সতর্কতার কোনো নিয়মকানুন তো মানা হচ্ছেই না, উপরন্তু করোনার প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এমনিতেই বন্দর উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সদর ছাড়া নারায়ণগঞ্জের যে কোনো উপজেলা থেকে বেশি। তার উপর এমন বেপরোয়া চলাচল বন্দরবাসীকে আরো হুমকির মুখে ঠেলে দিবে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, যদিও ঘাটগুলো আমাদের আওতাভুক্ত না, তার পরও আমরা জনগণের স্বার্থেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। সোমবার সকালে আমরা তাদের সাবধান করে দিয়েছি। গত মঙ্গলবারও আমরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আমরা তো তাদের সতর্ক করবই। কিন্তু জনগণকেও তাদের সমস্যা, তাদের বিপদের কথা বুঝতে হবে। তা না হলে আমাদের সবারই ক্ষতি হবে।
