‘নাই ভয়, হবে জয়’

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ২২:৫৮

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কালেও গানে-কবিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেছেন শিল্পীরা। সব মানুষ যখন ঘরে তখন প্রেরণাদীপ্ত গানে কবিতায় আলোচনায় তাকে স্মরণ করা হয়। প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি। সব অনুষ্ঠান হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তীতে ছায়ানট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল তাদের ইউটিউব চ্যানেলে। ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ওয়েবভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করেছিল ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের।

এদিকে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘আমি ভয় করবো না, ভয় করবো না’ শীর্ষক রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন। যা বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে।

শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন

‘আমি ভয় করবো না,     ভয় করবো না’ শীর্ষক রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদল গেয়ে শোনায় ‘হে নূতন,/ দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ’। আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম পাঠ করেন ‘দুঃসময়’ কবিতাটি। ডালিয়া আহমেদ আবৃত্তি করেন ‘ঝুলন’ ও ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’। এছাড়াও পাঠে অংশ নেন কৃষ্টি হেফাজ। একক কণ্ঠে আজিজুর রহমান তুহিন গেয়ে শোনান ‘যেতে যেতে একলা পথে’ গানটি। অনুষ্ঠানে আরো পরিবেশিত হয় ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার’, ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না’। এ আয়োজনে লোকনাট্যদলের প্রযোজনা ‘রথযাত্রা’ ও প্রাঙ্গণেমোরের ‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’ নাটক থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ প্রচারিত হয়। সবশেষে সম্মেলক কণ্ঠে ‘আকাশভরা সূর্য তারা’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।

ছায়ানটের রবীন্দ্র আয়োজন ‘ওই মহামানব আসে’

ছায়ানটের বিশেষ আয়োজন ‘ওই মহামানব আসে’ অনুষ্ঠানটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এ আয়োজনের গ্রন্থনা করেন ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন। গতকাল শুক্রবার সকালে শুরু হয় এ আয়োজন। প্রথমেই সত্যম কুমার দেবনাথ গেয়ে শোনান ‘শুভ্র প্রভাতে পূর্বগগনে উদিল কল্যাণী শুকতারা’। এর পর রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন বলেন, বাঙালির সকল সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ চিরকাল পথের সাথী। আজকের এই মহামারির দুর্দিনেও আমরা সেই চিরযাত্রীর সঙ্গে পা মিলিয়ে চলব। অগ্রসর হবো নবীন অভ্যুদয়ের শুভক্ষণের দিকে।

এর পর শিল্পী সেমন্তী মঞ্জুরি গেয়ে শোনান ‘তোমার আনন্দ ওই এলো দ্বারে, এলো এলো এলো গো’, সিফায়েত উল্লাহ মুকুল ‘হূদয় শশী হূদয় গগনে’, লাইসা আহমেদ লিসা ‘প্রভু আজি তোমার দখিন হাওয়া’। এরপর সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘আপন হতে বাহির হয়ে’ গানটি।

মিতা হক পরিবেশন করেন ‘পান্থ তুমি পান্থ জনের সখা’ ও মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়নার কণ্ঠে ‘উড়িয়ে ধ্বজা অভ্রভেদী রথে’ গানটি । এরপর পাঠে অংশ নেন জয়ন্ত রায়। সম্মেলক কণ্ঠে ‘ওই মহামানব আসে’ গাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।

ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বিশেষ আয়োজন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এই আয়োজনটি আইজিসিসির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ফেসবুকের পেজে সম্প্র্রচার করা হয়।

রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ‘ট্রিবিউট টু রবীন্দ্রনাথ ট্যাগোর: এ রে অব হোপ থট ট্যাগোরস ফিলোসফি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ, ভারতের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিদ্যুত্ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট অনুবাদক অধ্যাপক ফখরুল আলম এবং ভারতের অনুবাদক ও গবেষক অধ্যাপক রাধা চক্রবর্তী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের সভাপতি ড. বিনয় সহস বুদ্ধি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার ড. রীভা গাঙ্গুলি দাশ।

উদীচী ও ক্যালকাটা কয়্যার

রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও ক্যালকাটা কয়্যার। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত উদীচীর ফেসবুক পেজে এই অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। কবিগুরুর জয়ন্তী নিয়ে সংগীত, নৃত্য, কবিতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কথামালায় সাজানো ছিল অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন দুই বাংলার শিল্পীরা।