সাতকানিয়ায় একটি ইউনিয়নে সরকারি বনাঞ্চলের পাশেই গড়ে উঠা ও চাষাবাদের জমিতে ইটভাটাগুলোর প্রভাবে পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে—সাতকানিয়া-বাঁশখালী সীমান্তের এওচিয়া চুড়ামনি এলাকায় গড়ে উঠা ইটভাটাগুলোর চারদিকে রয়েছে সবুজ পাহাড়। আর এসব পাহাড়ে রয়েছে সরকারি-বেসরকারিভাবে গড়ে উঠা গাছের বাগান। ভাটাগুলোতে দেদার পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটার চিমনী থেকে নির্গত কারো ধোঁয়ার প্রভাবে বনাঞ্চলের গাছগুলো মরতে শুরু করেছে।
উপজেলার এওচিয়ার ছনখোলা চুড়ামনি পাহাড়ী এলাকায় বনাঞ্চলের পাশে গড়ে উঠা উগই ব্রিকফিল্ডের মালিক মোহাম্মদ ওসমানের ছোটভাই ও ওই ফিল্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ লোকমান জানান, তাদের ফিল্ড করার মতো বৈধ পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। তাছাড়া তাদের পরিবেশের যে ডিসিএল টাকা জমা করার রশিদ আছে তা ঠইগ ফিল্ডের নামে। চুড়ামনি এলাকার খলিলুর রহমান জানান, ব্রিকফিল্ডগুলোর চিমনির ধোঁয়ায় আশপাশের গাছগুলো মরে যাচ্ছে। প্রশাসন সুদৃষ্টি না দিলে পাহাড়গুলো অচিরেই ধবংস হয়ে যাবে।
এওচিয়া এলাকার ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মানিক বলেন, ঔই সমস্ত ব্রিকফিল্ড মালিকরা অনেকে আদালতে রিট করেছেন। এ জন্য তাদের সমিতির অন্তর্ভুক্ত করেছি।
সাতকানিয়া ব্রিকফিল্ড সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরিদ জানান, যারা পাহাড় কাটে তাদের সঙ্গে আমাদের সমিতির সম্পর্ক নেই। এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, এওচিয়া ইউনিয়নের চুড়ামনি এলাকার অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার জানান, দুই-এক দিনের মধ্যে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালানো হবে।
