প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ পাবনার সকল হোটেল রেস্তোরাঁ। এসব রেস্তোরাঁর উচ্ছিষ্টের ওপর নির্ভরশীল পশুপাখি হঠাত্ই সম্মুখীন হয়েছে চরম খাদ্য সংকটে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও প্রতিদিন সকালে এক ব্যতিক্রম দৃশ্যের দেখা মিলছে মধ্য শহরের ট্রাফিক মোড়সংলগ্ন শ্যামল দই ও মিষ্টান্ন ভান্ডারে। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার শালিক পাখির খাবার জোগান দিচ্ছেন মিষ্টি ব্যবসায়ী সমর ঘোষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক দশক ধরে শহুরে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি এ সব শালিকের জন্য প্রাতঃরাশের আয়োজন করেন দোকানের মালিক সমর ঘোষ। করোনায় রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকলেও নিয়ম করে সমরের অপেক্ষাতেই চেয়ে থাকে এই পাখিগুলো। সন্তানের মতো আগলে রাখা পাখিগুলোকে হতাশ করেননি সমর। তাই ঝুঁকি থাকলেও এই ঘরবন্দি দিনগুলোতে কেবলই শালিকের জন্য খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখছেন।
শুক্রবার সকালে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় সমর ঘোষের সঙ্গে। তিনি জানান, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে একটি দিনের জন্যও সমরের দোকানে বন্ধ হয়নি পাখিদের সকালের আহারের আয়োজন। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি চানাচুর খায় এসব শালিক। এই করোনা ভাইরাসের দুঃসময়ে তাদের জন্যই রোজ ভোরে দোকান খুলে খাবার দিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যান।
সমর ঘোষ বলেন, শালিকগুলো তার নিজের সন্তানের মতো। ওরা খাবারের জন্য তার পথ চেয়ে থাকে। করোনা ভাইরাস কী, কেন বন্ধ দোকান—এসব তো ওদের জানা নেই। ওরা খাবারের জন্য এসে ফিরে যাবে এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছিল। তাই ঝুঁকি থাকলেও ওদের মায়াতেই খাবার দিতে আসা। ওরা আমায় চেনে না। কিন্তু ওরা জানে, প্রতিদিন সকালে সেখানে খাবার পাওয়া যাবে।
করোনা ভয় এড়িয়ে শালিক পাখির প্রতি সমরের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ পরিবেশবিদরাও। নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি, পাবনার সহ-সভাপতি সুপ্রতাপ চাকী জানান, করোনায় হঠাত্ করেই খাদ্য সংকটে পথের পশুপাখিরা অসহায় হয়ে পড়েছে। এমন ক্রান্তিকালে সমর ঘোষ পাখিদের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন, জীবন জীবনেরই জন্য। বিপন্ন পৃথিবীতে প্রাণ ও প্রকৃতিকে ভালোবেসে সমরকে উদাহরণ মেনে সবাই এগিয়ে আসলে ভালোবাসায় পূর্ণ সত্যিকারের মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলা কঠিন কিছু নয়।
