বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের দুই মাসের মাথায় রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার পেরিয়ে গেল, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ২০০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শুক্রবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০৯ জনের মধ্যে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ১৩৪ জন। এর মধ্যে ৮৪ ভাগ ঢাকা বিভাগের। এক দিনে মৃত্যু হয়েছে আরো সাত জনের। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৬ জন।
দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হওয়ার দুই মাস গতকাল পূর্ণ হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা যেমন ছিল, বাংলাদেশেও একই রকম প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে, বাড়ছে সংক্রমণের পরিমাণ। আর সেই কারণেই এখন পর্যন্ত যত জনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে কেবল গত ১০ দিনে। শুধু তাই নয়, এই ১০ দিনের কোনো দিনই নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৫০০র নিচে ছিল না। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯১ জন, এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ২ হাজার ১০১ জন। সারাদেশে মোট ৩৫টি ল্যাবে গত এক দিনে ৫ হাজার ৯৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে বুলেটিনে জানানো হয়। যে সাত জন মারা গেছেন তাদের পাঁচ জন পুরুষ, দুই জন নারী। সক?লেই ষাটোর্ধ্ব। সুস্থ হয়েছেন আরো ১৯১ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১০১ জন।
এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৪ পুলিশ কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৯ জনে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ছয় পুলিশ সদস্য।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত সর্বশেষ ১০ দিনের প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। এর মধ্যে ২৮ এপ্রিল নতুন সংক্রমণ ছিল ৫৪৯টি। পরের প্রতিদিনে সংক্রমণের সংখ্যা সাড়ে ৫০০রও বেশি। এই ৯ দিনে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে যথাক্রমে ৫৪৯, ৬৪১, ৫৬৪, ৫৭১, ৫৫২, ৬৬৫, ৬৮৮, ৭৮৬, ৭৯০ ও ৭০৬ জনের শরীরে। নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে আনুপাতিক হারে বেড়েছে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যাও।
রাজধানীর যে ১০ স্থানে শনাক্ত বেশি : গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হওয়া রাজধানীর ১০টি অঞ্চলের তালিকা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এগুলো যথাক্রমে রাজারবাগ, কাকরাইল, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, তেজগাঁও, মালিবাগ ও বাবুবাজার।
টেস্ট ছাড়াই করোনার ছাড়পত্র : টানা ৭২ ঘণ্টা জ্বর ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত উপসর্গ না থাকলে পরপর দুটি পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) টেস্ট ছাড়াই হাসপাতাল থেকে সেই রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়ার নতুন বিধান তৈরি করেছে দেশের কোভিড-১৯ কারিগরি কমিটি। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, কোভিড-১৯ কারিগরি কমিটি হাসপাতাল থেকে রোগীর ছাড়পত্রের যে সুপারিশ করেছে এবং যে নির্ণায়কগুলো নির্দিষ্ট করেছেন, সেগুলো যথাযথভাবে পালিত হলেই রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন। তিনি বলেন, (ক) জ্বর কমানোর ওষুধ- যেমন প্যারাসিটামল সেবন ছাড়াই জ্বর সেরে গেলে; (খ) শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বা সমস্যাজনিত উপসর্গ যেমন-শুষ্ক কাশি, কফ, নিশ্বাসে দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গসমূহের লক্ষণীয় উন্নতি হলে; (গ) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি পিসিআর ফলাফল নেগেটিভ হলে। যদি দুটি পিসিআর পরীক্ষা করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে যদি ক ও খ টানা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে রোগীকে ছাড়পত্রের অনুমতি দেওয়া যাবে।’
