ঈদের আগে খুলছে না বড়ো মার্কেট

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ২৩:০২

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আগামীকাল রবিবার থেকে দোকানপাট, মার্কেট, সুপারসপ খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে বড়ো মার্কেট ও শপিংমলগুলো এখন খুলবে না মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও দোকান মালিকরা। বিশেষ করে রাজধানীর বৃহত্ দুই শপিং হাব বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ঈদের আগে খুলবে না—এমন ঘোষণা দিলে অন্যরাও একই পথে হাঁটছে। গতকাল বায়তুল মোকাররম মার্কেট, ঢাকা নিউ মার্কেট, গাউছিয়া সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটসহ অধিকাংশ বড়ো মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উত্তরার রাজলক্ষ্মী শপিং কমপ্লেক্স, উত্তরার রাজউক কমার্শিয়াল শপিং কমপ্লেক্স, ইসলামপুরের পাইকারি মার্কেট খোলার বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নেবে সেসব মার্কেটের কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে স্বর্ণ দোকান মালিকরা সারাদেশে দোকান না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেবল ঢাকা নয়, অন্য মহানগরীগুলোতে বড়ো বড়ো মার্কেট-সুপার শপগুলোও খুলবে না বলে জানা গেছে। গতকাল চট্টগ্রামের বিভিন্ন শপিং সেন্টারের দোকান মালিক সমিতি এবং ব্যবসায়ী সমিতির সম্মিলিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ১০ মে থেকে দোকান বা মার্কেট খোলার অনুমতি থাকলেও জনস্বার্থে ব্যবসায়ীরা মার্কেট বা শপিংমল খুলবেন না। জিইসির সানমার ওশান সিটি ও নাসিরাবাদের ফিনলে স্কয়ার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আসাদ ইফতেখার জানান, বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা সম্মিলিত বৈঠকে ঈদের আগে ৯টি শপিং সেন্টার ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে—সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট, ফিনলে স্কয়ার, আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, কল্লোল সুপার মার্কেট, আমিন সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, খুলশী কনকর্ড টাউন সেন্টার। আজ শনিবার চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট, আখতারুজ্জামান সেন্টার, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট ও লাকি প্লাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সিলেট নগরীর নয়াসড়কে দোকান না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নয়াসড়ক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন। খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা, ব্রা?হ্মণবাড়িয়াসহ প্রায় সব জেলার বড়ো মার্কেটগুলো না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন—ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী করোনা ভাইরাসের হটস্পট। এ কারণে সব মার্কেট খুলবে না। এটি মালিক সমিতি চাইলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধ রাখতে পারে। এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ সরকারও সীমিত পরিসরে শর্ত সাপেক্ষে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের চাপে মার্কেট খোলার অনুমতি দিলেও সরকার মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও দোকান মালিকদের জানিয়ে দিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করতে না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার করোনা বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিপণিবিতান, শপিংমল খুলে দিলে সবকিছুই খুলে দিতে হবে। একটি ব্যবসার সঙ্গে আরেকটি জড়িত। ফলে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে না। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দোকান মালিক সমিতি সরকারের কাছে আবেদন করেছিল সীমিত পরিসরে দোকান খোলার অনুমতি দিতে। সরকারের উচ্চ পর্যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্ত সাপেক্ষে মার্কেট খোলার অনুমোদন দিয়েছে। তবে কোনো দোকানদার যদি দোকান খুলতে না চায়, তাহলে তাকে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কোনো কর্মচারী না আসতে চাইলে তাকেও জোর করা যাবে না। আর স্বাস্থ্যবিধি না মানতে পারলে ঐ মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মূলত দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পরীক্ষামূলকভাবে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন যদি দেখা যায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে বা জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, তাহলে সরকারকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা ১০ মে থেকে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ঐ সিদ্ধান্তে বলা হয়, রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে। বড়ো বড়ো শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনসমূহকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দোকানপাট ও শপিংমলসমূহ বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া কোনো এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি তার ২ কিলোমিটারের মধ্যে মার্কেটে যেতে পারবেন, এর চেয়ে দূরে নয়।