করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করায় এক মাস পর মুসল্লিরা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করলেন। গতকাল স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ মসজিদগুলোতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে নামাজে মুসল্লিদের ভিড়ও দেখা গেছে।
দেখা যায়, নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের জন্য জীবাণুনাশক অটোমেটিক স্প্রে মেশিন বসানো হয়েছে। প্রবেশের আগে সবার হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। সেই সঙ্গে মাস্ক পরছেন কী-না সেটা নিশ্চিত হয়েই মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। আর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই নামাজ পড়েছেন সবাই। দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করতে মুসল্লিদের বাধ্য করেন। কয়েক সপ্তাহ পর জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা শুকরিয়া আদায় করেন। সঙ্গে এই মহামারি থেকে জাতি যেন মুক্তি পায় সেজন্য দোয়া করেন মুসল্লিরা। অনেক মুসল্লি বলেন, অনেক দিন পর মসজিদে নামাজ পড়তে পেরে তারা খুশি। তবে করোনার ভয় তাড়া করছে। মোনাজাতে আমরা আল্লাহর কাছে করোনা নামক গজব থেকে মুক্তি চেয়েছি। এর আগে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে গত ৬ এপ্রিল সর্বসাধারণকে ইবাদত বা উপাসনা নিজ নিজ বাড়িতে পালনের নির্দেশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়, জনস্বার্থে বাইরের মুসল্লি মসজিদেও ভেতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর এই প্রথম জুমা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রবেশ পথগুলোতে মুসল্লিদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দেওয়া হয়।
পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তার থানা এলাকায় বায়তুল মোকাররমসহ সাতটি মসজিদ রয়েছে। প্রতিটি মসজিদে নামাজের আগে ইমামদের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বৈঠক হয়। প্রায় সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জুমার নামাজ আদায় করেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বলেন, ‘আমি নিজেও বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছি। মোটামুটি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নামাজ পড়েছেন। মহাপরিচালক আরো বলেন, সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার মসজিদেও সুন্দরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নামাজ আদায়ের খবর পেয়েছি। তারপরও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, কোনো অসুস্থ ব্যক্তি ও অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিতরা মসজিদের জামায়াতে অংশ নিতে পারবেন না।
