যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় এপ্রিলেই বেকার ২ কোটির বেশি

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ০০:৪৬

করোনা ভাইরাস যেমন মানুষের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তেমনি মানুষের চাকরি হারানোর শঙ্কা বাড়িয়ে জীবিকায়ও আঘাত করেছে। তবে কোভিড-১৯-এ সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে গত মাসেই বেকার হয়েছে ২ কোটির বেশি মানুষ। এর আগে দেশটিতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ বেকারত্ব ভাতার আবেদন করেছিলেন। এদিকে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যু কোনোটাই থেমে নেই। গ্রিসের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংক্রমিত হয়েছেন। রাশিয়ায় ষষ্ঠ দিনের মতো ১০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। অন্যদিকে সংক্রমণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে করোনা ভাইরাসের মহামারির প্রথম বছরে আফ্রিকা মহাদেশে ১ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসেই বেকার ২ কোটির বেশি মানুষ

দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, অর্থনীতি একটি বড়ো ধাক্কা খেয়েছে। তাহলো দেশে এপ্রিল মাসে ২০ দশমিক ৫ মিলিয়ন বা ২ কোটি ৫ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। এই মাসে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্ব মহামন্দার পর এটাই এক মাসে সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার। বেকারত্বের শ্রেণি বিভাজনও করা হয়েছে। ১৩ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ এবং ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী, শ্বেতাঙ্গ ১৪ দশমিক ২ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গ ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ এশীয় এবং ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ হিস্পানিক। আর খাবার ও পানীয় সেক্টরে চাকরি হারিয়েছেন ৫৫ লাখ শ্রমিক। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ২৫ লাখ, পেশাজীবী ও ব্যবসায় ২১ লাখ এবং ১৩ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন উত্পাদন খাতে। এছাড়া আরো বহু শ্রমিক অন্যান্য খাতে চাকরি হারিয়ে বেকারত্ব ভাতার আবেদন করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সুখবর এটাই যে চাকরি হারানো শ্রমিকদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ লে অফের মাধ্যমে হারিয়েছেন। মাত্র ১১ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের চাকরি স্থায়ীভাবেই চলে গেছে। মার্চে চাকরি হারানোর ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল লে অফের মাধ্যমে এবং ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

এর আগে ২০০৯ সালে বিশ্ব মন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রে ৮৭ লাখ চাকরিজীবী বেকার হয়েছিলেন। ঐ বছরের অক্টোবরে বেকরত্বের হার ছিল ১০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেকারত্বের হার (২৫ শতাংশ) ছিল ১৯৩৩ সালে। এর আগে ছিল কি না তা জানা যায়নি। কারণ, ১৯৩৩ সাল থেকেই সরকার বেকারত্বের পরিসংখ্যান সরকারিভাবে প্রকাশ শুরু করে। গত মধ্য মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন জারি করার পর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষের বেকার হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষকে বেকারত্বের ঘানি টানতে বাধ্য করল করোনা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ নামের রোগ। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ১৩ লাখ ৮ হাজার ৩১২ জন এবং প্রাণ গেছে ৭৭ হাজার ৮৮৩ জনের। আর বিশ্বে মোট আক্রান্ত ৩৯ লাখ ৮১ হাজার ২৯৬ জন এবং প্রাণহানি হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৭ জনের।

ভারতেও আক্রান্ত বাড়ছে

দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে ৩ হাজার ৯০ জনের শরীরে। আর প্রাণ কেড়েছে ১০৩ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট সংক্রমিত ৫৬ হাজার ৩৪২ জন এবং মৃত্যু হলো ১ হাজার ৮৮৬ জনের। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তরা অধিকাংশ মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি ও তামিলনাড়ুর। মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২১৬ জন। এ নিয়ে এই রাজ্যে মোট আক্রান্ত ১৭ হাজার ৯৭৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে এরপরেই আছে গুজরাট। সেখানে মোট আক্রান্ত ৭ হাজার ১২ জন। দিল্লিতে আক্রান্ত ৫ হাজার ৯৮০ জন।

অন্যান্য দেশ

জার্মানিতেও চলতি সপ্তাহে মসজিদ খুলে দেওয়া হচ্ছে। ইতালিতে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল দেশটিতে নতুন করে ২৪৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মারা গেছে ৩০ হাজার ২০১ জন। কুয়েত আরো ২০ দিন কারফিউ জারি রাখবে বলে জানিয়েছে। গ্রিসের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং চিকিত্সক দিমিত্রিস ক্রেমাস্তিনোস (৭৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। আর আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরোজউদ্দিন ফিরোজের শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ এসেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ায় এক দিনে আক্রান্ত বেড়েছে ১০ হাজার ৬৯৯ জন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ২৩১ জন। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল। গতকাল মারা গেছে ৯৮ জন। মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭২৩ জনের। —নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিএনএন ও আলজাজিরা