শীতে তিস্তার চরাঞ্চলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগে

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৩

 ‘ঠান্ডাতে মরি যাওছি, হামাক বাঁচান বাহে, ছিঁড়া ক্যাঁথা দিয়া গাওএ গরম হয় না’— এভাবেই শীতের কষ্টের কথা বলছিল উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের সিংগীমারী এলাকায় তিস্তা বাঁধে বাস করা আরতি রানী (৪৫)। বাঁধের নিচে ভাঙাচোরা একটি চালাঘর তার। একপাশে বাঁধের বাঁশ ও একপাশে কলার পাতা দিয়ে ঘেরা। কলার পাতাও শুকিয়ে গেছে। ঘরের ভিতরে একটি ছোট্ট চৌকি। আর চৌকির উপরে একটি পুরানা কাঁথা। এক পাশে কিছু জমানো খড়ি। বাইরে একটি চুলা। সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের কথা হয় আরতির সঙ্গে। পরনে চাদর জড়ানো। কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তার কেউ নেই। স্বামী থাকিয়াও নেই। বিশ বছর আগে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার খোঁজ করে না। অন্যের বাড়িতে টুকটাক কাজ করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে আরতির। কেমন শীত বাহে — এমন প্রশ্নের জবাবে আরতি বলেন, ঠান্ডাতে মরি যাওছি, হামাক বাঁচান বাহে, ছিড়া ক্যাঁথা দিয়া গাওএ গরম হয় না।

হাড় কাঁপানো ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তিস্তা কুলবর্তী গ্রামসহ উপজেলা সর্বত্র নিম্ন আয়ের মানুষের চরম দুর্ভোগ আকার ধারণ করেছে। কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দামও বেশি নিচ্ছে দোকানদাররা। শীতের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। মানুষের পাশাপাশি শীতের কবলে পড়েছে গবাদিপশু।

তিস্তার চরাঞ্চলে অভাবী ও শীতকাতর মানুষের দুর্ভোগ আরও বেশি।  শীতে এবার এমনি অবস্থা বিরাজ করছে চরাঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে। অভাবী এসব পরিবারের আকুতি-ঠান্ডার হাত থেকে হামাক বাঁচান।

লক্ষ্মিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতে মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত বেশি হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন তারা। সরকারিভাবে ২১৯টি কম্বল দেওয়া হয়েছে। শীতার্ত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু কম্বল দেওয়া দরকার বলে তিনি বলেন।