স্পোর্টস রিপোর্টার
সাড়া জাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তাসকিন আহমেদের। খুব কম সময়ের মধ্যেই পেয়েছেন তারকা খ্যাতি। কিন্তু দুই বছর ধরে উলটো রথে তাসকিনের ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১৮ সালের মার্চে।
নিজের ক্যারিয়ারের অধোগতির মূল কারণ জানিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। সরল স্বীকারোক্তির সঙ্গে নিজের উপলব্ধির কথাও বলেছেন তাসকিন। বলেছেন, ইনজুরির সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে কিছুটা দুলকি চালে চলার খেসারতই দিচ্ছেন তিনি। সাফল্য আসায় নিজের যত্ন কমিয়ে দিয়েছিলেন। যার কারণেই লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে আছেন তিনি। গত শুক্রবার রাতে তামিম ইকবালের লাইভে এসব কথা জানিয়েছেন তাসকিন। লাইভে অতিথি হিসেবে ছিলেন রুবেল হোসেনও।
তাদের আড্ডায় ক্রিকেট, ক্যারিয়ারসহ নানা বিষয় উঠে আসে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তারকাখ্যাতি পাওয়া এবং পরবর্তীতে দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে তাসকিনকে প্রশ্ন করেন তামিম। উত্তরে নিজের বালখিল্যতার কথা স্বীকার করে ২৫ বছর বয়সি এই পেসার বলেছেন, ‘প্রথম দিকে ভালো খেলছিলাম, মানুষও অনেক বাহবা দিচ্ছিল। যেখানেই যাই ঘিরে ধরত, ছবি তুলত, এসব আসলেই ভালো লাগত। আসলে তখন তো ভালো খেলছিলাম, প্রায় সব ম্যাচেই ডাক পাচ্ছিলাম। আর ম্যাচ খেললেও উইকেট পাচ্ছিলাম। তখন আসলে আমার মাথায় চিন্তাও আসেনি আমি কখনও খারাপ খেলব কিংবা আমার ইনজুরি হতে পারে।’
ইনজুরির আঘাত এসেছিল নিজের অযত্নের কারণেই। তাসকিন বলেন, ‘প্রথম দুই বছর আসলে খুব সিরিয়াস ছিলাম নিজের প্রতি। কিন্তু তৃতীয় বছর আমার মধ্যে যখন ঢুকে গেল ভালোই তো খেলতেছি, উইকেট পাচ্ছি, সব ম্যাচেই একাদশে থাকতেছি সবমিলিয়ে আমি নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া কমিয়ে দিয়েছি, জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন আসছিল। যার ফলে মূলত আমার পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়ে। আমি ইনজুরিতে পড়ি, এর পর দল থেকেও বাদ পড়ে যাই। এর পর তো দলে আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলাম। গত দুই বছরে আমি দুইবার ওয়ানডে সিরিজে এবং চারবার টেস্ট সিরিজে ডাক পেলেও কম্বিনেশনের কারণে একাদশে সুযোগ পাইনি।’
এখন তাসকিনের উপলব্ধি—ভালো করতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। তরুণদের প্রতিও একই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ৫ টেস্ট, ৩২ ওয়ানডে, ১৯ টি-২০ খেলা এই পেসার বলেন, ‘দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য এখন আমাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে, আরো পরিণত হতে হবে। আমি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনো পরিশ্রমের বিষয়ে ছাড় দেব না। দলে থাকি আর না থাকি সবসময় পরিশ্রম করে যাব এবং শৃঙ্খল থাকব।’
