একটি বিষয় লক্ষ করিয়া আমরা মুগ্ধ হইয়াছি। সাধারণ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অভিযোগ শুনিতে পাওয়া যায়। কিন্তু জাতির চরম সংকটের সময় এই বাহিনী যেইভাবে কাজ করিয়া যাইতেছে, তাহাতে প্রশংসা না করিয়া পারা যায় না। আমরা জানি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শত শত সদস্য ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়াছেন। কিন্তু তাহার পরও ঝুঁকি লইয়া কর্তব্য পালন করিয়া যাইতেছেন তাহারা। যদিও তাহারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করিতেছেন, কিন্তু এই দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া তাহাদের মধ্যে আগ্রহের কোনো ঘাটতি দেখা যায় নাই। জাতির প্রয়োজনে তাহাদের অবদান রাখিবার ইতিহাস আছে। আমাদের স্মরণে রহিয়াছে, ১৯৭১ সালে যখন জাতির উপর দুর্যোগ নামিয়া আসিয়াছিল, অপারেশন সার্চলাইট নামে হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তত্কালীন ইপিআর সদর দপ্তর এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হামলা চালাইয়াছিল, তখন কোনো দ্বিধা না করিয়া রাজারবাগের পুলিশরাই অস্ত্র হাতে তুলিয়া লইয়াছিলেন, সম্মুখযুদ্ধে নামিয়াছিলেন। আজ আরো একটি জাতীয় দুর্যোগের সময়ও আমাদের পুলিশ বাহিনী বসিয়া নাই। মাঠে রহিয়াছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। তাহারাও দেশের আনাচে-কানাচে নানাভাবে জনগণকে সহযোগিতা করিতেছেন। পূর্বেই বলা হইয়াছে, এই সকল বাহিনী কেবল যে কর্তব্য পালন করিতেছে তাহাই নহে, মানবসেবার একটি স্পৃহাও তাহাদের মধ্যে লক্ষ করা যাইতেছে। ইতিমধ্যে র্যাবেরও বহু সদস্য আক্রান্ত হইয়াছেন। চিকিত্সা বিভাগের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করিয়া এই এলিট ফোর্স নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কনসেনট্রেটর মেশিন তৈরি করিয়া নিজেরাই সেবা প্রদান করিতেছেন। এই কনসেনট্রেটর মেশিন দ্বারা বিশুদ্ধ অক্সিজেন উত্পাদন করা হইয়া থাকে। পত্রিকার রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, পল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারকে অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করিয়া অক্সিজেন তৈরি করা হইতেছে। এইখানে কর্মরত সকলেই র্যাবের সদস্য।
বলিতে হয়, নিজেরা স্বতঃস্ফূর্ত না হইলে তাহারা এই রকম উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিতেন না। সুতরাং মাঠে কর্মরত বাহিনীগুলির প্রত্যেক সদস্যই যে দেশের নাগরিকদের রক্ষার জন্য নূতন যুদ্ধ চালাইয়া যাইতেছেন, তাহা অস্বীকারের উপায় নাই। তবে আমাদের উদ্বেগের বিষয় হইল, এই বাহিনীর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়া গেলে দেশে আরেক ধরনের বিপর্যয় নামিয়া আসার আশঙ্কা রহিয়াছে। কারণ তাহারাই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। আর আইনশৃঙ্খলা ভাঙিয়া পড়িলে তখন সকল কূল সামলানো মুশকিল হইয়া যাইবে। এই জন্য আমরা বারংবার উল্লেখ করিতেছি, যে করিয়াই হউক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করিতে হইবে। কেবল পিপিই বা সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করিলেই চলিবে না, তাহারা নিজেদের কীভাবে রক্ষা করিতে পারেন, সেই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
