ফুটপাতে ভাসমান হকাররা বসতে পারবে না
ঈদ বাজার
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামে রমজানে সকল ধরনের বিপণিবিতান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার সিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঈদের পর আগামী ৩১ মে পর্যন্ত নগরীর সকল বিপণিবিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। এর আগে আজ ১০ মে রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে ঈদের কেনাকাটার জন্য সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা যাবে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়।
উল্লেখিত সরকারি সিদ্ধান্তের পর প্রথমে গত শুক্রবার নগরীর অভিজাত ১০ বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। পরে নগরীর সকল দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আগে জীবন, পরে জীবিকা। আগে মানুষকে বাঁচতে হবে। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে দোকান খোলা রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে রমজানের এক মাস আগেই ব্যবসায়ীরা পণ্য কালেকশন করেছে। রমজানের আগে অর্ধেক পণ্য চলে এসেছে। বুকিং করা বাকি পণ্য পাইপ লাইনে রয়েছে। ফলে এসব পণ্য রমজানে বিক্রি করতে না পারলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়বে ব্যবসায়ীরা। বিপণিবিতান ও শপিংমলের পাশাপাশি ফুটপাতের ভাসমান হকাররা ব্যবসা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ব্যবসায়ী নেতা আবদুল মান্নান বলেন, এখন রমজান মাস অর্ধেক চলে যাচ্ছে। প্রতি বছর ক্রেতারা রমজান শুরু থেকে ঈদসামগ্রী কেনাকাটা শুরু করেন। বিশেষ করে থানকাপড় কেনাকাটা ১০ রমজানের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
চিটাগাং মেট্রোপলিটন শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাসেম ইত্তেফাককে বলেন, নতুন কালেকশনের ঈদপণ্য গুদামে পড়ে রয়েছে। আবার অনেক পণ্য পাইপ লাইনে রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোগ। ক্রেতাদের সাড়া মিলবে কী-না সংশয় রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে শুধু উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে টাকা আছে। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত সকলেই অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। তাই আশানুরূপ বেচাকেনা হবে না। মার্কেটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দুষ্কর।
নগরীতে থানকাপড়ের বৃহত্ বিপণিকেন্দ্র টেরিবাজার। এখানে কয়েক ডজন এক্সক্লুসিভ শপিংমল রয়েছে। লকডাউনের কারণে টেরিবাজারের সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা ঈদের কেনাকাটা নিয়ে হতাশ। কারণ ১০ রমজানের মধ্যে থানকাপড়ের কেনাকাটা হয়ে যায়। টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, টেরিবাজার থেকে সারাদেশের ব্যবসায়ীরা কাপড় নিয়ে যায়। লকডাউনের কারণে ব্যবসায়ীরা শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ভারতসহ অন্য দেশ থেকে ঈদপণ্য কালেকশন করেছে। কিছু পণ্য বুকিং দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা নগদে ও বাকিতে পণ্য কালেকশন করেছে। এটা ব্যবসার নিয়ম। এখন থানকাপড় বা সেলাইরের কাপড় বিক্রির সময় নেই। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে ক্রেতারা কেনাকাটায় কতটুকু সাড়া দেয় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
এদিকে বিপণিবিতান ও শপিংমলের পাশাপাশি ফুটপাতের ভাসমান হকাররা ব্যবসা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে নগরীতে প্রায় ৩০ হাজারের মতো ভাসমান হকার রয়েছে। এসব হকার থেকে নিম্নবিত্তের ক্রেতারা ঈদের পণ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এব্যাপারে মেট্রোপলিটন হকার সমিতির সভাপতি মীর হোসেন মিলন বলেন, বেচাকেনা করলে সবাই করতে পারবে। ব্যবসার মধ্যে কোনো শ্রেণি নেই। যদি ঈদ উপলক্ষ্যে নগরীতে কোনো বিপণিবিতান না খোলে তাহলে আমরা বসব না।
