দুর্গম সাজেকের পাহাড়ে জুম চাষের আগুন

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ২১:২৮

পুড়ছে শত শত একর বনাঞ্চল

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম সাজেক এলাকায় রিজার্ভ ফরেস্টের শত শত একর সংরক্ষিত পাহাড়ি বনাঞ্চল ও আশপাশের পাহাড়ে জুম চাষের নামে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে ওষুধি নানা প্রজাতির লতা-পাতা ও গাছপালা। জুম চাষের নামে জুমিয়াদের এ ধ্বংসলীলা চলছে বছরের পর বছর। ফলে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার ভারসাম্য, বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণি, পাখি ও কীট-পতঙ্গ। ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয়, যার দায়ভার বহন করতে হচ্ছে সাজেকসহ পাহাড়ে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ে জুম চাষের নামে আগুনের লাগামহীন লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে পাহাড় থেকে পাহাড়ে আর শত শত একর সংরক্ষিত পাহাড়ি বনাঞ্চল ও আশপাশের ঘর-বসতি এলাকায়। এতে করে অনেক সময় এসব ঘর-বসতিগুলোও আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাদ পড়ছে না। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

অবাদে বনাঞ্চাল ধ্বংসের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পাহাড়ি ছড়া ও কুয়ায় দেখা দিচ্ছে চরম পানির অভাব, ফলে বাড়ছে পাহাড়ে পানি বাহিত রোগবালাই। তবে পাহাড়ে আগুন দেওয়া থেকে স্থানীয়দের দূরে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই দেওয়া হয় কঠোর বার্তা, তাতেও লাগামটানা যাচ্ছে না এই জুমে আগুন দেওয়ার রীতিনীতির।

স্থানীয় সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা ও গ্রাম প্রধানদের দাবি তারা নিরুপায় হয়েই আগুন দেয় পাহাড়ে, তাদের খাদ্যের সংকট রয়েছে, খাদ্যের যোগানে তাদের বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান নেই, আগুন না দিলে জুমে চাষ না হলে না খেয়ে থাকতে হবে। তাদের দাবি সরকার যদি তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেয় তাহলে তারা জুম চাষ ছেড়ে দেবে তখনই পাহাড়ে আগুন দেওয়া বন্ধ হবে।

বাঘাইছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সভাপতি ও কাচালং সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞানের প্রভাষক আবুল ফজল মনে করেন, জুম চাষের নামে অবাদে বনাঞ্চল ধ্বংস করার পরিণাম হবে ভয়াবহ, পানির স্তর শুকিয়ে যাবে, নেমে আসবে চরম বিপর্যয়, তাই বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জুম চাষ থেকে বিরত রাখতে হবে। তা না হলে পরিবেশ বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

বাঘাইছড়ির বাগাইরহাট বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন, জুমচাষের ব্যাপকতা ও এলাকার আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য জুমচাষের নামে বন ধ্বংস রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বন বিভাগ জুম চাষ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।