লকডাউনেও খোলা দোকান বেড়েছে যানবাহনের ভিড়

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ২১:৫৭

নারায়ণগঞ্জে  করোনার ঝুঁকি

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

করোনার হটস্পট জেলা নারায়ণগঞ্জ। এরইমধ্যে গত শুক্রবার পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ১১৫৬ জন আক্রান্ত, ৫২ জনের মৃত্যু ও ৭০ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গত বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে করোনা হাসপাতালে (খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল) কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য স্থাপিত ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। ঐ ল্যাবে আপাতত ৯০টি টেস্ট সম্ভব। লোকবল বাড়লে সেটা ১৮০ করা যাবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে লকডাউন ঢিলেঢালা  হয়ে পড়ছে। সড়কে যান চলাচল, গার্মেন্টস, বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ২ নম্বর রেল গেট থেকে দেওভোগ সড়কে ও জিমখানায় ইজিবাইকের স্ট্যান্ডের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কালীর বাজারে বিভিন্ন দোকানপাট খোলা দেখা গেছে। ডিআইটি মসজিদের সামনে ভ্যান গাড়িতে ইফতারসামগ্রী বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। ফতুল্লার বিসিকে দুপুর ২টায় শ্রমিকদের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত ৮ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জকে করোনার রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে নারায়ণগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মানুষের বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া প্রতিরোধে কাজ করতে থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে খুলতে থাকে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো।

 ইফতারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে হোটেল রেস্তোরাঁ। এখন ঘোষণা এসেছে ঈদ উপলক্ষ্যে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার। এসব কিছুর আঁচ লাগতে শুরু করেছে বাণিজ্যনগরী নারায়ণগঞ্জেও। লকডাউনের মধ্যেই চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে শহর। নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কের আশপাশে ডিআইটি থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে রাস্তায় যানবাহন চলাচল আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তাছাড়া সড়কের ফুটপাতে অনেক স্থানে নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসতে দেখা গেছে হকারদের। শহরের চাষাঢ়া হকার মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান খোলা দেখা গেছে।

তাছাড়া গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেওয়ার এ সংশ্লিষ্ট কর্মব্যস্ততাও বেড়ে গেছে নগরী জুড়ে। এদিকে, গত কয়েকদিন আগেও শহরে পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থানে দেখা গেলেও তা ভিন্নরূপ দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে পুলিশ চেকপোস্টগুলোও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে  জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধীরে ধীরে মিল-কারখানা মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিবেশ স্থিতিশীল হচ্ছে। এদিকে, ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে জেলার করোনা পরিস্থিতি। একদিকে যেমন গুচ্ছ গুচ্ছভাবে সংক্রমণ এলাকা বাড়ছে; তেমনি মৃদু লক্ষণ নিয়ে এখনো শনাক্তের বাইরে ৮০ শতাংশ রোগী ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠছে।