জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ীর চর এলাকায় যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙনের তীব্রতাও বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে খোলাবাড়ী, বরখাল, গুচ্ছগ্রামসহ খোলাবাড়ী চর বাজারটি গত সপ্তাহে যমুনায় বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানার তিনতলা ভবনটি। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল থানাটি উদ্বোধন করেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। উদ্বোধনের সময় নৌ-থানা থেকে যমুনা নদী ছিল প্রায় ৫০০ গজ দূরে। এখন থানা ভবন থেকে নদী মাত্র ২০ থেকে ২৫ গজ দূরে রয়েছে। যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো মুহূর্তে নৌ-থানাটি যমুনায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে খোলাবাড়ীর চর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি মসজিদসহ অনেক ঘরবাড়ি, গাছপালা, হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
বাহাদুরাবাদ নৌ-থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে থানাটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন একটি সরকারি ভবন নির্মাণ করার আগে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তবে ভাঙন রোধে খোলাবাড়ী থেকে ফুটানিবাজার পর্যন্ত ৮০০ কিলোমিটার অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলতে ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে টেন্ডার করা হবে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেন, খোলাবাড়ী রক্ষার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভাঙনের বিষয় অবহিত করে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।
