নোভেল করোনা ভাইরাসের মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অতি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং মাঝারি শিল্পকে (সিএমএসএমই) সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত তিনটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের আকার বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে আরো দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণের সুযোগ করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিল থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা। গতকাল এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানা গেছে, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতে পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের আকার ৮৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য মফস্সলভিত্তিক শিল্প স্থাপনের তহবিল ৭০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। নতুন উদ্যোক্তা পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের আকারও ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ, অর্থাত্ ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল তিনটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এই তিন তহবিলের ঋণের গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সুদের হার হবে ৩ শতাংশ। অর্থাত্ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তিন তহবিল থেকে ৩ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের ৭ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে।
এতে আরো বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া আরো গতিশীল ও টেকসই করতে চলতি মূলধনের পাশাপাশি মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগের যথাযথ প্রবাহ নিশ্চিতকল্পে এই তিনটি তহবিলের আকার বাড়ানো হয়েছে।
এসব তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত ছিল। সেই সব শর্ত শিথিল করা হয়েছে। সার্কুলারে এই তিন তহবিল থেকে পুনঃ অর্থায়ন পেতে যেসব শর্ত ছিল, তা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের সার্কুলারে বলা হয়েছিল, এই তিন তহবিলের আওতায় পুনঃ অর্থায়ন পেতে হলে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হারে মূলধন পর্যাপ্ততা—নগদ সংরক্ষেণের হার (সিআরআর) এবং বিধিবদ্ধ তরল সম্পদ সংরক্ষণের হার (এসএলআর) সংরক্ষণ করতে হবে। এ দুটি শর্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ঋণ পাওয়ার শর্তও শিথিল করা হয়েছে। আগের সার্কুলারে শর্ত ছিল, এই তিন তহবিল থেকে ঋণ নিতে হলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসায়িক অভিজ্ঞতা ন্যূনতম পাঁচ বছর হতে হবে। নতুন সার্কুলারে তা কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সিএমএসএমই খাতের জন্য। এই প্রণোদনার অর্ধেক, অর্থাত্ ১০ হাজার কোটি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
