বন্দরে বহুতল ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হচ্ছে। বাড়িওয়ালার গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বন্দরের উইলসন রোডের দীঘিরপাড় মোল্লাবাড়ির রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন রাবেয়া মঞ্জিল নামে পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। ঐ ঘরে ঘুমাচ্ছিল ভবনটির নিচতলার ভাড়াটিয়া খোরশেদ আলমের দুই ছেলে মাসনুন (১২) ও জিসান (৮)। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুই ভাই। এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান পাশের বাড়ির হুমায়ূন কবিরের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাবনী আক্তার (৩০)। বিস্ফোরণে পাশের একটি চারতলা বাড়ি ও একটি টিনশেড বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন আরো পাঁচ জন। তারা হলেন, নিহত নারীর মেয়ে নাবিলা, তামান্না, শহীদ, রেকমত শেখ, রুবেল। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান বাড়িওয়ালা রফিকুল ইসলাম হাসান।
বন্দর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন সাব অফিসার জিন্নাত আলী খান জানান, বাড়িটির নির্মাণ কাজে ত্রুটি ও ভবন মালিকের গাফিলতির কারণে এই বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) খোরশেদ আলম। খোরশেদ আলম বলেন, ভবন মালিকের গাফিলতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনের অভিযোগ। তারা নিয়মিত সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এ ঘটনায় থানায় মামলা হচ্ছে।
