বিশ্বের প্রায় সবক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানের মহামারি করোনা ভাইরাসের সংকটে দেশটি সেই নেতৃত্ব থেকে যেন সরে আসছে। মার্কিন প্রভাবশালী মিডিয়া সিএনএনের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি চীন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে করোনা সংকট মোকাবিলায় সব আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থেকেই দূরে। এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকেই খুশি করতে চান। রাশিয়া এখন ইউরোপে করোনায় সংক্রমণের দিক দিয়ে চতুর্থ ও বিশ্বে পঞ্চম স্থানে। আর চীন ক্রমেই উন্নতি লাভ করছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগে সামিল হচ্ছে।
নেতৃত্ব থেকে সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সিএনএন গতকাল কূটনীতিক, বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহ্যগতভাবেই বিশ্বের যে কোনো সংকটে নেতৃত্বের আসনে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন, ওষুধ ও চিকিত্সায় তহবিল সংগ্রহের জন্য অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেখানে অংশ নেয়নি ওয়াশিংটন। সাবেক বিশ্ব নেতারা বলছেন, মহামারি কোভিড-১৯ কে রাজনীতির মধ্যে ফেলে এবং চীনকে শাস্তি দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো ভুল হয়েছে এই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিল স্থগিত করে দেওয়া।
শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে করোনা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন সংঘাতের অবসানে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব আটকে দেয় বলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন। এর আগে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রুপ অব সেভেন এবং গ্রুপ অব টুয়েন্টির সম্মেলনেও এই ধরনের উদ্যোগ বাতিল করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ম্লান করছেন।
রাশিয়া আক্রান্তে বিশ্বে পঞ্চম
রাশিয়া দ্রুত করোনা ভাইরাসের হটস্পট হয়ে উঠেছে। দেশটিতে টানা সাত দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত ১০ হাজার ৮১৭ জন। মোট আক্রান্ত প্রায় ২ লাখ। মারা গেছে প্রায় ২ হাজার। এতে সংক্রমণের দিক দিয়ে ইউরোপে চতুর্থ এবং বিশ্বে পঞ্চম স্থানে প্রেসিডেন্ট পুতিনের দেশ। ওয়ার্ল্ডোমিটার জানায়, একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৫২ জন আক্রান্ত এবং মারা গেছে ৭৮ হাজার ৭০১ জন। বিশ্বে গতকাল পর্যন্ত ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮ জনের মধ্যে। মারা গেছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭ জন।
ভারতসহ অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি
ভারতে তৃতীয় দফার লকডাউন শেষ হচ্ছে ১৭ মে। এর আগেই প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছে গেল দেশ জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৩২০ জনের করোনা ধরা পড়ায় সারাদেশে আক্রান্ত ৫৯ হাজার ৬৬২ জন। তিন ভাগের এক ভাগ আক্রান্ত মহারাষ্ট্রেই (১৯ হাজার ৬৩ জন)। ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৫ জনের মৃত্যু হওয়ায় সারাদেশে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ২৮ হাজার ৫৫১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬২৩ জনের। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২ হাজারের বেশি ক্লাব, বার ও ডিস্কো বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটিতে নতুন করে ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছে যাদের মধ্যে ক্লাবে যাওয়া এক ব্যক্তিও রয়েছেন। বেলারুশে আক্রান্ত বাড়লেও উদ্বেগকে পাত্তা না দিয়ে সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
