দুদকের আরেক কর্মীসহ আট জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ২৩:১৩

এক দিনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান সহকারী খলিলুর রহমানসহ আট জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১৪ জন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬৩৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার হাজার ৭৭০ জন। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকাল শনিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। দুদকের প্রধান সহকারী খলিলুর রহমান শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তিনি দুপুরের দিকে মারা যান। এর আগে গত ৬ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান। তিনি ২২তম বিসিএস ক্যাডার ছিলেন। এর ফলে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত দুদকের দুজন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।

৩৫টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা ভাইরাস শনাক্তে           গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫ হাজার ২৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ৪৬৫টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯টি। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো ৩১৩ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৪১৪ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় বিগত ২৪ ঘণ্টায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ৫ হাজার ৯৪১টি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭০৯ জন। সে হিসেবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা বাড়লেও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। শনিবারের বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নতুন করে যারা মারা গেছেন, এদের সবাই পুরুষ; সত্তরোর্ধ্ব দুজন, ষাটোর্ধ্ব দুজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুজন ও ত্রিশোর্ধ্ব একজন। তিনি জানান, মোট রোগী শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সুস্থতার হার ৯১.৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৮.২ শতাংশ। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৯৬ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ২ হাজার ১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৫৩ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩ জন।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৭৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭৬, সিলেট বিভাগে ১৬৩, রংপুর বিভাগে ২৬৩, খুলনা বিভাগে ২১১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪১১, বরিশাল বিভাগে ১৩০ এবং রাজশাহী বিভাগে ১৫৩ জন। ঢাকা শহরে ৫৮.২৮ শতাংশ, ঢাকা বিভাগের ২৩.৭৯ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫.৪৫ শতাংশ, সিলেটে ১.৫৪ শতাংশ, রংপুরে ২.৪৯ শতাংশ, খুলনায় ২ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩.৭৮ শতাংশ, বরিশালে ১.২৩ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ১.৪৫ শতাংশ শনাক্ত হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে এখন সর্বাধিকসংখ্যক শনাক্ত ব্যক্তি আছেন। এদিকে করোনা চিকিত্সার জন্য সারাদেশে (ঢাকা শহরের বাইরে) আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৮ হাজার ৫৯৪টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ৯০০টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৬৯৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা ৩২৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট ১০২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে মোট কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৫৫ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪০৫ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৭১৮ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ২২২ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৮ হাজার ১৮৩ জন। দেশের ৬৪ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে করোনাসেবা দেওয়া যাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে। বুলেটিনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন গোটা বিশ্বই করোনা ভাইরাসের কবলে। মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া ৪০ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পৌনে ৩ লাখ। তবে প্রায় ১৪ লাখ রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে চলছে ছুটি। বন্ধ বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আজ থেকে শর্তসাপেক্ষে শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শর্তসাপেক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে মসজিদও।