জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলবে তুরস্ক

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ২৩:১৪

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের ইস্যুটি উত্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তুরস্ক। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কভুসগলু এই প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সেদেশে প্রত্যাবর্তনে তুরস্ক সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন পরবর্তী বছর ডি-৮ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য মহাপরিচালক পর্যায়ের কমিশনারদের ভার্চুয়াল সেশন আয়োজনের অনুরোধ জানান। করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ডি-৮-এর একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন ড. মোমেন। এসব বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করেন। বর্তমানে তুরস্ক ডি-৮-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

স্বল্পোন্নত দেশের জন্য জি-২০-এর বরাদ্দকৃত ৭ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাংলাদেশ যেন সহযোগিতা পায়, সে বিষয়ে জি-২০-এর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন ড. মোমেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে দেওয়া কোভিড-১৯ রিকভারি অ্যান্ড রেসপন্ড ফান্ড গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন। ড. মোমেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকে আর্থিক ও খাদ্যের সংকটে আছে। তাদের চাকরি যাতে বহাল থাকে সে বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তাছাড়া যদি কোনো শ্রমিক দেশে ফেরত আসেন, তবে তারা যেন কমপক্ষে ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা পান, সে বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে একত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে ড. মোমেনের প্রস্তাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মতি প্রকাশ করেন। উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়াতে কোভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে ১ লাখ সার্জিক্যাল মাস্কসহ এন-৯৫ মাস্ক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।