করোনাকালেও দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সচল রাখা হয়েছে। কারখানাটির জেনারেল ওভারহলিং শপ (জিওএইচ) চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ মুহূর্তে জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য শপটিতে মেরামত করা হচ্ছে একটি লাগেজ ভ্যান। এর আগে ওয়াগন শপে সাতটি মালবাহী ওয়াগন মেরামত করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, জিওএইচ শপে চলছিল একটি ব্রড গেজ লাইনের লাগেজ ভ্যান মেরামত কাজ। কারখানার শ্রমিকেরা সবাই ব্যস্ত। তাদের সহযোগিতা করছিলেন শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আওতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ওপরের নির্দেশে গত ৪ মে থেকে সীমিতভাবে খুলে দেওয়া হয় কারখানা। সাধারণ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় জরুরি পণ্য রেলে পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রেলের কাছে পর্যাপ্ত লাগেজ ভ্যান না থাকায় সংকট দেখা দেয়। যদিও এরই মধ্যে রেলওয়ে সারাদেশে তিনটি পণ্যবাহী পার্সেল ট্রেন চালু করেছে। আরো একটি রাজশাহী বা খুলনা থেকে চালু হবে। এ কারণে আমরা লাগেজ ভ্যানটি মেরামত করছি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্যব্যবস্থাপক শেখ হাসানুজ্জামান এ সম্পর্কে বলেন, দেশে এখন মহামারি চলছে। করোনাকালের এই দুর্যোগ মুহূর্তে আমরা বসে নেই। কারণ রেলওয়ে হচ্ছে একটি সেবা খাত। তবে কর্মীদের কাজে নামানোর আগে আমরা স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করেছি। কারখানার একটিমাত্র ওয়ার্কার গেট খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে আমরা জীবাণুনাশক ট্যানেল স্থাপন করেছি। যা রেল অঙ্গনে এটাই প্রথম। থারমার স্ক্যানার দিয়ে শ্রমিকদের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কোনোভাবেই যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, এ কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে শ্রমিকরা। তিনি বলেন, এর আগে আমরা সাতটি মালবাহী ওয়াগন মেরামত করেছি। এসব রেলের পরিবহন বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ১২ মের মধ্যে বর্তমানে মেরামতে থাকা লাগেজ ভ্যানটিও হস্তান্তর সম্ভব হবে।
এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে পুরোমাত্রায় স্বাভাবিক উত্পাদনে ফিরে যাবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, সে মানসিক প্রস্ততি আমাদের রয়েছে।
ইত্তেফাক/ এমএএম
