স্পোর্টস রিপোর্টার
বছরের শুরুতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দক্ষিণ আফ্রিকায় যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। যুবাদের এই বিশ্বজয়ের কান্ডারি ছিলেন আকবর আলী। ফাইনালে স্রোতের বিপরীতে ব্যাট হাতে বুক চিতিয়ে লড়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়া আকবরের নামের পাশে তখনই যোগ হয়েছিল ‘ক্যাপ্টেন কুল’র তকমা।
ক্রিকেট বিশ্ব অবশ্য ক্যাপ্টেন কুল হিসেবে ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই চিনে। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে ধোনির সঙ্গে মিল রয়েছে আকবরের। ঠান্ডা মস্তিষ্ক বিবেচনায়ও তারা প্রকৃতি একইরকম। তবে তরুণ আকবর কাউকে অনুসরণ করেন না। কারো মতো হতে চান না এই বিশ্বকাপজয়ী। অবশ্য ক্রিকেটারদের মধ্যে তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে এবি ডি ভিলিয়ার্স। ক্রিকেট দুনিয়ায় সাবেক এই প্রোটিয়া অধিনায়কের খ্যাতি যদিও নান্দনিক, বিস্ফোরক, ভয়ংকর সুন্দর ব্যাটিংয়ের কারণে। ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান খ্যাত ডি ভিলিয়ার্সের দুরন্ত ব্যাটিংই হয়তো তার প্রতি আকবরের মোহের মূল কারণ।
গত শনিবার রাতে করোনা দুর্গতদের সাহায্যার্থে বিশ্বকাপের জার্সি, গ্লাভস অনলাইন নিলামের জন্য ফেসবুক লাইভে নিজের আদর্শ ক্রিকেটারের নাম সম্পর্কে কথা বলেছেন আকবর আলী। জানতে চাইলে আকবর বলেছেন, ‘আসলে আমি ঠিক কারও মতো হতে চাই না। আমি নিজের মতোই বেড়ে উঠতে চাই। আমি আসলে হারতে চাই না। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ছাড়াও যেকোনো খেলায় জিততে চাই। জেতার মানসিকতা নিয়েই খেলি। কাজেই সেভাবে কাউকে আদর্শ মানি না, অনুসরণও করি না। তবে পারফরমার হিসেবে ডি ভিলিয়ার্সকে খুব ভালো লাগে। হতে পারব কি না...তবে তার মত হতে চাই। বাকিটা আল্লাহ জানেন।’
শনিবার রাতের ওই ফেসবুক লাইভে ছিলেন মুশফিকুর রহিমও। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কও মাতলেন আকবরের প্রশংসায়। আকবরের এই সময়ে নিজে এতটা মেধাবী ছিলেন না বলেই মন্তব্য করেন মুশফিক। চাপ জয়ে আকবরের দক্ষতা অসাধারণ লেগেছে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের।
মুশফিক বলেছেন, ‘আকবর যে জায়গায় আছে, ঐ জায়গায় এত মেধাবী আমি ছিলাম না, এমনকি এখনো এমন না। আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম। ফাইনালে ও যে ইনিংস খেলেছে চাপের মধ্যে—অসাধারণ। আকবর যেটাই বলুক। ব্যাট হাতে ওর যে চরিত্র, একজন অধিনায়ক এটা মনে হয়নি। মনে হয়েছে সাধারণ একজন ব্যাটসম্যান যে ম্যাচ শেষ করে চলে আসবে। ম্যাচে এত কিছু হয়ে যাচ্ছে এটা ওর ব্যাটিং দেখে বোঝা যায়নি।’
