একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রান্তিক ভোট কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের সমাগম বেশি ছিলো। দূরের ভোট কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের জন্য রিকশা এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকই ছিলো ভরসা। অধিকাংশ নারী-পুরুষ ভোটার কেন্দ্রে গেছেন পায়ে হেঁটে।
নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র এবং চান্দগাঁও এলাকার ৮টি কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করতে গেলে তারা জানান, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যেই নগরীর অধিকাংশ কেন্দ্রে ৬৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ভোটারদের সমাগম হ্রাস পায়। নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন বলে জানান ভোটার ও প্রার্থীদের সমর্থকরা। তারা আশা করেন বিকেলের দিকে আরও ২ থেকে ৩ শতাংশ ভোট পড়বে।
নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় কর্ণফুলী তীরবর্তী চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রান্তিক ভোট কেন্দ্র চান্দগাঁও হামিদচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিকে ঘিরে ছিলো ভোটার সমর্থকদের উত্সব মুখর সমাগম। এই কেন্দ্রের ভোটার হাজী ইউসুফ সওদাগর, মো. জাহাঙ্গীর কোম্পানী, মো. নাছির উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, সকালে ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। এখানে শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য একটু বেশি সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন হয়। প্রার্থী সমর্থকদের ধারণা এই কেন্দ্রে দুপুরের মধ্যেই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। চান্দগাঁও এলাকার শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলে হাঙ্গামার আশঙ্কা করা হলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হতে দেখা যায়। সিএন্ডবি ফায়ার সার্ভিস ভোট কেন্দ্র এবং কালুরঘাটের বিসিক শিল্পাঞ্চলের নজরিয়া নঈমিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে দুপুরের পরও ভোটারদের লাইন দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রের ভোটার মো. বখতেয়ার ও মো. বাহাদুর এবং নঈমিয়া মাদরাসার সিফাত, জুয়েল প্রমুখ ভোটার জানান, দুপুর পর্যন্ত তারা ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে মনে করছেন।
মহিলাদের ভোট কেন্দ্র চান্দগাঁও গ্রীণ সাইন স্কুলে দুপুরে ভোটারদের সমাগম কিছুটা হ্রাস পায়। পাশাপাশি হাজেরা তজু কলেজ কেন্দ্রেও ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় সবচেয়ে বড় ভোট কেন্দ্র সিডিএ আবাসিক স্কুল এন্ড কলেজে ভোটার প্রার্থীদের উত্সবমুখর সমাগম দেখা গেছে। দু’টি বুথে কেন্দ্রের প্রায় ৪ হাজার ভোটার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা ভোটার নাসিমুল ইসলাম, সোহানি আক্তার এবং তাসফিয়া আরবী ইত্তেফাককে বলেন, সুন্দরভাবে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। চান্দগাঁও ফরিদেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার আসমা বেগম বলেন, তিনি অনেক দূর থেকে পায়ে হেঁটে ভোট দিতে এসেছেন। ভোট দিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এখানে কর্তব্যরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই কেন্দ্রে গোলযোগের আশঙ্কা করা হলেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। ভোটাররা মনে করছেন দুপুর নাগাদ এই কেন্দ্রে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। চান্দগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোট কেন্দ্র, পাঁচলাইশের এখলাসুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাদপুর মূক ও বধির স্কুলে সকালে ভোটারদের ভিড় বাড়লে শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে আসেন।
এদিকে, নগরীর লালখান বাজারের শহীদ নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টার দিকে ভোট শুরুর আগে ব্যালট ভর্তি বাক্স কেন্দ্রে ঢুকানো হয় এমন অভিযোগ উঠলেও ভোট কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কেউ তা স্বীকার করেননি। দুপুর ১২টার দিকে বিবিসি বাংলার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এই বিষয়ে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার আশরাফুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘এই ধরনের কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি। সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া’। একই বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এলিনোরি লিনডা ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা গত দুইদিন ধরে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটার প্রশ্নই আসে না।’
