একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে আসা বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। গতকাল রবিবার ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিন ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের কাছে সন্তোষের কথা জানান তারা।
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো অপারেশনের (ওআইসি) পর্যবেক্ষক দল বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তারা মনে করেন, নির্বাচন বিশ্বাস ও ভরসাযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক দলের দলনেতা এ এম বি হামেদ এ অপেলয়েরু বলেন, তাদের দেখা মতে অন্তত ৫০ শতাংশ ভোট গৃহীত হয়েছে। তারা যেসব কেন্দ্রে গিয়েছেন, সেসব কেন্দ্রের পোলিং অফিসাররা তাদের ব্যালট বই প্রদর্শন করেছেন। নির্বাচনে সহিংসতা প্রসঙ্গে বলেন, সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা কিছুটা স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি প্রাণ মূল্যবান হওয়াতে একটি মৃত্যুও গ্রহণযোগ্য নয়।
হামেদ বলেন, নির্বাচনের ভিত্তি তিনটি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা। তাদের কাছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ৩ উপাদানের উপস্থিতি ছিল বলে মনে হয়েছে। তারা জানান, ওআইসি ভালো সরকার ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে, আর বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া তা সম্ভব নয়।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কানাডা, ভারত ও নেপাল থেকে আসা এবং অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকদের একটি দল সকালে পাঁচটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে। কানাডা থেকে আসা পর্যবেক্ষক তানিয়া ফস্টার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রত্যেকে তার ভোট প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তারা কেন্দ্রে যাচ্ছেন এবং ভোট দিচ্ছেন। ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে যান তিনি। এরপর আরও চারটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। তানিয়া ফস্টার বলেন, আমি পাঁচটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কেন্দ্রগুলোর বহু কক্ষ পরিদর্শন করেছি। ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। ভোটাররা তাদের ভোট দিচ্ছেন।
ভারত থেকে আসা পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ড. গৌতম ঘোষ বলেন, ‘নির্বাচন স্বাভাবিক পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং সবকিছু ভালোভাবেই হচ্ছে।’ ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিন ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ভোট দিয়েছে। প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’ বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচনের মধ্যে কোনো মিল আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একই জিনিস দেখতে পাচ্ছি। সেখানেও জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয় এবং এখানেও তাই।’ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আজ সোমবার নির্বাচন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে দেশি ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন এবং ওআইসি ও কমনওয়েলথ থেকে আমন্ত্রিত ও অন্যান্য বিদেশি পর্যবেক্ষক ৩৮ জন, কূটনৈতিক বা বিদেশি মিশনের কর্মকর্তা ৬৪ জন এবং বাংলাদেশে দূতাবাস বা হাইকমিশন বা বিদেশি সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি ৬১ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
আনফ্রেলের বিবৃতি পক্ষপাতদুষ্ট : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (আনফ্রেল)-এর বিবৃতিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের একদিন আগে শনিবার এক বিবৃতিতে আনফ্রেলসহ মোট ১৫টি সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, নিয়ন্ত্রণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। নির্বাচনী প্রচারণাকালে নির্বাচনী সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে তারা জানায়, এ নির্বাচনকে যেকোনো যুক্তিতেই সুষ্ঠু ও অবাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এর প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার নির্বাচনের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বাধীন, সুষ্ঠু, উত্সবমুখর এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আনফ্রেল ও এর সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর নির্বাচনী পরিবেশকে ‘সীমাবদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করাটা ভুল তথ্য এবং আগে থেকে ধারণাপ্রসূত।
