করোনা সংকট দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই মহামারির কারণে সব ক্ষেত্রেই বিরাট ধাক্কা লেগেছে। তবে আশা করি এই বাধা দূর করে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে। দেশবাসীকে মনে সাহস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, অসুখ-বিসুখ হলে মানুষকে মনে সাহস রাখতে হবে। শুধু ডাক্তার বা ওষুধ দিয়েই ভালো হবে না, মনের জোর ও আত্মবিশ্বাস থেকেও অনেকটা সুস্থ হওয়া যায়। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব নির্দেশনা দিয়েছে সকলকে সেগুলো মেনে চলতে হবে। তাহলে সুরক্ষিত থাকা যাবে। ভয় পেয়ে করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে অনেকের অমানবিক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক না।’
প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। গতকাল সকালে নিজের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সঙ্গে যুক্ত হন। পিএমওতে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।
অনুদান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তিরা হচ্ছে—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেএইউ), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ডুয়েট), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগাগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (নগদ), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স কনস্টাবুলারি (এমওডিসি), দ্য কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না, বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, বিসিএস কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্স, বিসিএস কৃষি অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, সড়ক ও জনপথ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব লিমিটেড, বুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, থার্মাক্স গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, পূর্বাচল ক্লাব লিমিটেড, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং মোস্তাসিম বিল্লাহ সিয়াম।
জীবন-জীবিকা চালাতেই বন্ধ পরিস্থিতি
ক্রমশ শিথিল করা হচ্ছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকা চালাতেই বন্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ শিথিল করা হচ্ছে। আমরা কিছু কিছু ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছি। কিছু জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা যাতে মানুষ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করছি। কারণ এটা রোজার মাস।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব নির্দেশনা দিয়েছে—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, এক জায়গায় জটলা না করা, যাতে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সবাইকে সেটা মেনে চলতে হবে।’ সবাইকে মাহে রমজানের মোবারকবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার কষ্টের বিষয়টি উপলব্ধি করেই সরকার ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
