ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আজ থেকে বিচারকাজ শুরু

আপডেট : ১০ মে ২০২০, ২২:৪৭

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে তথা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের সকল আদালতসমূহে স্বল্প পরিসরে আজ সোমবার থেকে বিচার কাজ শুরু হচ্ছে। করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রায় দুই মাস দেশের সকল আদালত বন্ধ থাকায় নানা সমস্যার পাশাপাশি বাড়ছিল মামলা জট। সেই পরিস্থিতি উত্তরণে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঐ সিদ্ধান্ত মোতাবেক উচ্চ আদালতে রিট, ফৌজদারি ও দেওয়ানি মোশন শুনানির জন্য বসবে তিনটি একক বেঞ্চ। অপরদিকে অধস্তন আদালতে শুধু জামিন শুনানি হবে।

এদিকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আইনজীবীরা কীভাবে মামলা দায়ের ও শুনানিতে অংশ নেবেন সে লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক জারি করা হয়েছে ১৪ দফা ব্যবহারিক নির্দেশনা। গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুল কোর্ট সভায় ঐ নির্দেশনাসমূহ অনুমোদনের পর জারি করা হয়। সভায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন।

উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা :নির্দেশনার আলোকে আইনজীবীরা মামলার আবেদন ও নথিপত্র ইমেইলের মাধ্যমে দাখিল করবেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ অফিসারের ইমেইলে প্রেরিত মামলার সকল নথিপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তার জন্য দায়ী হবেন মামলার ফাইলিং ল’ইয়ার। মামলার গুরুত্ব অনুযায়ী শুনানির দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেবেন বিচারক। মামলার আবেদন ও দাখিলকৃত নথির একটি প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করতে হবে। যেসব মামলার শুনানি হবে তার একটি অনলাইন কার্যতালিকা থাকবে। যেদিন শুনানি হবে সেদিন মামলার সকল পক্ষের আইনজীবীরা সশরীরে নয়,            ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নিবে। বিচারক ও আইনজীবীকে যথাযথ পোশাক পরিধান করতে হবে। শুনানির পর মামলার রায় বা আদেশের অনুলিপির স্ক্যান কপি ইমেইলে পাবেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টে তিনটি একক বেঞ্চ :আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হাইকোর্টে বিচার কাজ পরিচালিত হবে। সেজন্য প্রধান বিচারপতি রিট, ফৌজদারি ও দেওয়ানি মোশন এবং অন্যান্য মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য তিনটি একক বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। এর মধ্যে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে জরুরি সকল প্রকার রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং তত্সংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণের এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জরুরি সকল প্রকার ফৌজদারি মোশন ও তত্সংক্রান্ত জামিনের আবেদন গ্রহণ করবেন। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারকে অন্যান্য মামলার শুনানির জন্য এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অধস্তন আদালতের বিচারকরা শুধু জামিন শুনানি গ্রহণ করবেন। সকল জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের পাশাপাশি চীফ জুডিশিয়াল ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জামিন শুনানি হবে।

দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন উভয় আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ শনিবার জারি করা হয়। সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো.আব্দুল হামিদ আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ জারি করেন। অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিচারের যে বাধা ইতিপূর্বে ছিল তা দূর হয়। একই সঙ্গে মামলাজট কমবে বলেও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।