গতকাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল, ভোট প্রদানে বাধা, হামলা, কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া, জালভোট ও রাতে বেশিরভাগ কেন্দ্রের ভোট কেটে নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে প্রায় ৫৩ আসনে ৬৪ জন প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা এই আসনগুলোতে পুনঃনির্বাচনের দাবিও জানান। ভোট বর্জনকরী প্রার্থীদের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীই বেশি। তবে নেই কোন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। জামায়াতের পক্ষ থেকে ধানের শীষে ২২ প্রার্থী ও দলটির পক্ষে স্বতন্ত্র ৪ প্রার্থীর নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা করে গতকাল দুপুরেই। ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলাম ভোট বর্জন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার চূড়াইন ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকে সংবাদ সম্মেলন করে সালমা ইসলামের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরল ইসলাম বাবুল এ ঘোষণা দেন। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সালমা ইসলাম। তবে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।
নাটোর: নাটোরের তিনটি আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এরা হলেন, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী কামরুন্নাহার শিরিন, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে সাবিনা ইয়াসমিন ছবি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান সেন্টু, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের প্রার্থী বিএনপির দাউদার মাহমুদ।
বাগেরহাট: জেলার চারটি আসনে ঐক্যফ্রন্টের ৪ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। এরা হলেন, বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ সালাম, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. শেখ মাছুদ রানা, বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসনে জামায়াত নেতা মোহম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াত নেতা মো. আব্দুল আলীম।
খুলনা: খুলনায় পাঁচটি আসনে দুই জামায়াত ও তিন বিএনপি প্রার্থীসহ ৬ প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এরা হলেন, খুলনা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খান ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সুনীল শুভ রায়, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ এ জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা-৬ আসনে জামায়ত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
টাঙ্গাইল: জেলার আটটির পাঁচটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন। এরা হলেন, টাঙ্গাইল-১ আসনে শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-২ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর (এ প্রার্থী কারাগারে রয়েছেন) পক্ষে জেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল আলম তোফা, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে লুত্ফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনে গৌতম চক্রবর্তী, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
ময়মনসিংহ: জেলায় বিএনপির ছয় প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি প্রার্থীরা হলেন, ময়মনসিংহ-১ আসনে আফজাল এইচ খান, ময়মনসিংহ-৩ আসনে ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল আহমদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনে জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনে ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমদ, ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে খুররম খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১১ আসনে ফখর উদ্দিন আহমদ বাচ্চু। এছারা নির্বাচন বর্জন করা এলডিপি প্রার্থী হলেন- ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনের এ্যাডভোকেট মাহমুদ মোর্শেদ।
যশোর: গতকাল ৪টি আসনে ৬ প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এরা হলেন, যশোর-১ এ বিএনপি প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাত্ হোসেন, যশোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হক জহির ও এনপিপির প্রার্থী মুহম্মদ আলী জিন্নাহ, যশোর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী কামরুল হাসান বারি ও ধানের শীষের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস।
লক্ষ্মীপুর: জেলার ৪টি আসনে ৪ ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এরা হলেন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আ স ম আবদুর রব, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্টের জামায়াত নেতা মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সিপিবির মিহির ঘোষ, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী কাজী মশিউর রহমান, গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম শহীদ রনজু ও ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফারুক আলম সরকার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
এছাড়া বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর ও খেলাফত আন্দোলনের মাহবুব আলম, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপি প্রার্থী আবু হেনা, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫(নবীনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ্ সোলায়মান আলম, কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম হাবিব দুলাল, রংপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিএম সাদিক ও নাগরিক ঐক্যের রহমতুল্লাহ, নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান,
জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল বাকী, জয়পুরহাট-১ আসনে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী আসম মুক্তাদির তিতাস, বাসদের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, ইসলামী আন্দোলনের দেওয়ান মো. জহুরুল ইসলাম, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জি. মমিনুল হক, মানিকগঞ্জ-১ (শিবালয়, ঘিওর-দৌলতপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল হামিদ ডাবলু ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ্ব খোরশেদ আলম নির্বাচন বর্জন করেছেন। পাবনা-৫ (সদর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা ইকবাল হোসাইন ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, নেত্রকোনা-৫ আসনের (পূর্বধলা) বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
