আফগান বোর্ডের কাছে জানতে চাইবে বিসিবি

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ২০:২০

বিপিএলে শফিকউল্লাহর ফিক্সিংয়ের চেষ্টা

স্পোর্টস রিপোর্টার

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) দুর্নীতিবিরোধী ধারা ভঙ্গের দায় স্বীকার করায় ব্যাটসম্যান শফিকউল্লাহ শফিককে ছয় বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

বিপিএলের গত আসরে সিলেট থান্ডারের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন শফিকউল্লাহ। বিপিএলের এই আসর চলাকালীনই সিলেট থান্ডারকে নিয়ে নানা রকম সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। সংবাদমাধ্যমেও খবর এসেছিল দলের কিছু ক্রিকেটারের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে। আসর শেষ করেছিল দলটি তলানিতে থেকে।

এসিবির দুর্নীতিবিরোধী চারটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় শফিকউল্লাহর বিরুদ্ধে। ঘরোয়া ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা, ঘরোয়া ম্যাচ পাতানোর জন্য ঘুষ দেওয়া বা নেওয়া, ঘরোয়া ম্যাচ পাতানোর জন্য সতীর্থকে প্ররোচিত করা এবং দুর্নীতির প্রস্তাব পেয়েও লুকানো।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসিবি জানিয়েছে, বিপিএলে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টার পাশাপাশি ২০১৮ সালে এপিএলের ম্যাচ নিয়েও অভিযোগ ছিল শফিকউল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো মেনেও নিয়েছেন তিনি।

বিপিএলের নামটি চলে আসায় স্বভাবতই নড়েচড়ে বসতে হচ্ছে বিসিবিকে। আফগান বোর্ড তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তারাই শাস্তি দিয়েছে। এর আগে বিসিবির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি তাদের। মিডিয়ার মাধ্যমে অবগত হওয়া বিসিবি এখন বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইবে এসিবির কাছে।

গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এমনটাই বলেছেন। শফিকউল্লাহর নিষিদ্ধ হওয়া ও বিপিএলে ফিক্সিংয়ের চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। যেহেতু এ ধরনের একটা বিষয় মিডিয়ায় আসছে আমরা জানতে চাইব—এটার ফাইন্ডিংসটা কী। এটা তো ওদের বোর্ডের ফাইন্ডিংস। আমাদের সঙ্গে ঐ ভাবে শেয়ার করা হয়নি। মিডিয়ায় আসছে বিষয়টি, এটি আমরা জানতে চাইব তাদের কাছে।’

এসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা সৈয়দ আনোয়ার শাহ কুরাইশি শফিকউল্লাহর অপরাধ সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটা খুবই গুরুতর অপরাধ, এক জন সিনিয়র ক্রিকেটার ২০১৮ এপিএলের একটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচে দুর্নীতিতে জড়িত ছিল। এই ক্রিকেটার ২০১৯ বিপিএলেও (২০১৯-২০) একটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচে একজন সতীর্থকে দুর্নীতিতে জড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন।’ ৩০ বছর বয়সি এ আফগান ক্রিকেটার ২৪টি ওয়ানডে ও ৪৬টি টি-২০ খেলেছেন।