মোহাম্মদ মহসীন
বর্ষজীবী গুল্ম জাতের ঔষধি লতা। কাণ্ড লতানো। শাখা-প্রশাখায় ভরা। কাঁটাযুক্ত। লালচে রঙের। কিছুটা শক্ত। আর ফলগুলো চ্যাপটা, বাঁকা, লম্বাটে। এ লতাগাছ সহজে ভাঙে না বরং পেঁচিয়ে টানলে মূল ছিঁড়ে ওঠে। পাতা কয়েক জোড়া। লতানো গাছটি ছোট্ট হলেও পাতার ধরন অনেকটাই তেঁতুলপাতার মতো। পাতায় হাত ও পায়ের স্পর্শ লাগলে বুজে যায়। শৈশবে এ গাছের সঙ্গে কত না মজা করেছি। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। উপপত্র কাঁটায় ভরা। ফুল উভলিঙ্গ। বৃতির সংখ্যা চারটি। পাপড়িও চারটি। ফুল বেগুনি ও গোলাপি রঙের। পাহাড়ি লজ্জাবতী গাছের উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট, তাও দেখেছি।
মে থেকে জুন মাসে ফুল আসে আর জুলাই-আগস্টে ফুল থেকে ফল হয় এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ থেকে চারা গজায়। গাছের শাখা-প্রশাখা, মূল, পাতা ও পুরো অংশই উপকারী। মূলে থাকে ট্যানিন জাতীয় উপাদান।
সেকালে গ্রামাঞ্চলে ডাক্তার পাওয়া দুরূহ ছিল। গ্রাম্য চিকিত্সক হিসেবে তখন ছিলেন দাদি-মা-চাচিরা। বৃক্ষ লতা শিশু-বুড়োদের খাওয়ানো হতো রোগ নিরাময়ের জন্য। ছোট্ট সোনামনিরা যদি ঘুমের মধ্যে প্রশ্রাব করে দিত, তখন দাদি-মা-চাচিরা লজ্জাবতী গাছের মূল উঠিয়ে মঙ্গলবার সাঁঝের বেলা, সূর্য অস্তের সময় সন্তানের কোমরে কাঁথার সুতা দিয়ে বেঁধে দেওয়ার জন্য নির্দেশ করতেন। ফলও মিলত ভালো—ছেলেবেলায় দেখেছি।
পাতা ও ফুলে অনেক ঔষধিগুণ রয়েছে। হাত-পা জ্বালা করা, আমাশয় ও কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন রোগে লজ্জাবতী বেশ উপকারী।
আদি নিবাস মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে, বিশ্বের সব জায়গায় দেখা মেলে। লজ্জাবতী প্রায় ৪০০ প্রজাতির গুল্ম ও লতার একটি গণের নাম। তাপদাহের প্রভাবে গাছের পাতা কখনো দিনে কখনো রাতে বন্ধ হয়ে যায়। আবার ভোরবেলা গাছের পাতা ও ফুল ছড়ায়, তখন মনোরম লাগে।
