করোনাকালে শিশুদের যত্ন ও আমাদের করণীয়

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ২১:৪১

তন্বী আক্তার

করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দিন এগোচ্ছে, আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই সময়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি অধিক যত্নশীল হতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের হঠাত্ করেই স্কুল, শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধব তথা স্কুলের পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে তাদের এখন সবকিছু মানিয়ে নিতে যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি অনেকের মধ্যেই তীব্র অস্থিরতা ও চঞ্চলতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক অভিভাবকের মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা জন্ম নিয়েছে। তাই অভিভাবককে বিশেষ করে সন্তানের মাকে ধৈর্যসহকারে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের স্কুলে শেখানো বিষয় অনুশীলনের মধ্যে না রাখলে অধিকাংশ সময় সেগুলো দ্রুত ভুলে যায়। তাই এই ক্ষেত্রে অভিভাবককে প্রতিনিয়ত এই বিষয়গুলো বার বার করে অনুশীলন করাতে হবে। যে বিষয়ের প্রতি শিশুর আগ্রহ রয়েছে, তাকে সেই বিষয় করতে দিতে হবে; তা হতে পারে নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয়, ছবি আঁকা বা বাদ্যযন্ত্রের প্রতি বিশেষ অনুরাগ। অভিভাবককে একটি কাঠামোগত রুটিন তৈরি করে দিতে হবে, যেখানে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। কিছু সময় যাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবার কিছু সময় যেন একাকী কাজ করতে পারে। প্রতিটা কাজ শেষে তাকে পুরস্কৃত করতে হবে বা প্রশংসা করতে হবে। এতে করে তার কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। রুটিনে খেলার সময় এবং প্রতিটি নির্দেশনাবলী সুস্পষ্ট থাকবে। এতে করে শিশু কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকবে।

তবে এই সময় বিশেষ করে অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে অনেকের তীব্র অস্থিরতা ও চঞ্চলতা, খিটখিটে, রাগান্বিত আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে। তাই সেই অভিভাবকদের ধৈর্য সহকারে বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রথমত, তাদের কোন বিষয়ের ওপর চাহিদা বেড়ে গেছে বা কোন কোন বিষয়ে আগ্রহ, ইচ্ছা রয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর শিশুর চাহিদার ওপর নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে সন্তানকে বোঝাতে হবে। বর্তমান সময়ে যদি সন্তানের চাহিদা পূরণ করতে না পারেন তাহলে শান্ত থাকতে হবে। শিশুবান্ধব উপায়ে শিশুর তীব্র অস্থিরতা, চাঞ্চল্যতা সামলাতে হবে। সন্তানের বয়স উপযুক্ত ভাষা ব্যবহার করতে হবে। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখতে হবে এবং তাদের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের উদ্বেগের মাত্রায় অভিভাবককে সংবেদনশীল হতে হবে। এই সময় শিশুদের খাদ্য তালিকার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

করোনার এই মহামারি সময়ে শিশুকে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বার বার করে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি বিষয়ক সতর্কতা ও নিয়মকানুন বোঝাতে হবে। পরিবারের সদস্যরা অভিনয় করে বোঝাতে পারেন বা ছবি এঁকে, ভিডিও দেখানোর মাধ্যমেও বিষয়গুলো বোঝাতে পারেন।

এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা অনেক সময় নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে না। তাই এই সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। যারা নিয়মিত থেরাপি সেন্টারে যেতেন, তারা এখন বাড়িতে বসে করাতে পারেন। সম্ভব হলে সপ্তাহে এক-দুই দিন শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারেন।

এই পরিস্থিতে অবশ্যই অভিভাবককে নিজের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। যদি কোনো সময় বিচলিত হয়ে পড়েন তাহলে নিজেদের জন্য সময় নিন। এমন কোনো কাজ করুন যাতে মানসিকভাবে শান্তি পাবেন এবং পুনরায় সতেজ করতে ভূমিকা রাখবে

n লেখক :শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়