‘জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে’

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ২১:৪৫

অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের চালকেরা মানছেন

না নিষেধাজ্ঞা n দোকানপাট খুলে দেওয়ার

পরদিনই পুরোনো রূপে রাজধানী

পিনাকি দাসগুপ্ত

দোকানপাট খোলার পরদিনই (গতকাল) রাজধানী ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে তার পুরোনো রূপে। যাত্রীবাহী বাস ছাড়া চলছে সব ধরনের যানবাহন। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই সড়কে দেখা গেছে প্রচুর যানবাহন। কোথাও কোথাও ছিল যানজটও। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সিগন্যালেই ছিল ভিড়। উল্লেখ্য, সরকারি ছুটির ৪৫তম দিনে এসে গতকাল সড়ক-মহাসড়কসহ ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে আগের রূপে। দায়িত্ব পালনেও কিছুটা ঢিলেমি দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মূলত সরকারের অঘোষিত লকডাউন শিথিল ও দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্তের পরই সড়কে গাড়ি চলাচল বেড়েছে। তবে যারা বের হয়েছেন তারা সবাই বলছেন, প্রয়োজনের কারণেই বের হতে হয়েছে তাদের। বের হওয়া মানুষের মধ্যে প্রায় সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

সরকার ১৬ মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করলেও একমাত্র বাস ছাড়া রাজধানীতে চলছে সব ধরনের যানবাহন। অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের চালকেরা মানছেন না নিষেধাজ্ঞা। আবদুল্লাহপুর, চন্দ্রা বা কাঁচপুর—সব জায়গাতে একই চিত্র। এই সুযোগে রেন্ট-এ কার ও রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালকেরা হাঁকছেন বাড়তি ভাড়া। গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করায় বাড়ছে করোনার ঝুঁকি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকে বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলতে দেখা গেছে। গার্মেন্টস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় সড়কে মানুষের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে ঢাকায় ঢুকছেন কর্মজীবীরা। শুধু এ পথেই নয়, প্রতিটি মহাসড়ক দিয়েই রাজধানীতে ঢুকছেন তারা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞায় রাস্তায় নেই কোনো বাস। তাই ভরসা রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ বা প্রাইভেট কার। সামর্থ্য অনুযায়ী যে যেভাবে পারছে ব্যবহার করছে এসব পরিবহন।

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক সময়ে যারা উবার, পাঠাও বা সহজসহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিংয়ের চালক ছিলেন, তারা এখনো সড়কে সচল। লকডাউনে দীর্ঘদিন সড়কে চলেনি গাড়ি। তাই অনেক চালকের সংসারে নেমে এসেছে অভাব। তাই তারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন বলে জানান। তবে গাদাগাদি করে যেভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, তাতে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি। এসব দেখভালে সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশের অবস্থান। তবে মানুষের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

দারুস সালাম থানার পুলিশ বলেছে, ‘সড়কে বাস ছাড়া অন্যান্য যানবাহন সীমিত আকারে চলছে। সামাজিক দূরত্ব মানতে সবাইকে সতর্ক করছি। এছাড়া রাস্তায় মাঝে মাঝে রাইড শেয়ারিংয়ের কিছু বাহন দেখা যায়। তাদের রাস্তায় না থাকতে অনুরোধ করা হয়।’ মাঠ পুলিশের মতে, করোনার মধ্যেও ঢাকামুখী মানুষের চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে অচিরেই মহা কর্মব্যস্ত ও যানজটের পুরোনো রূপে ফিরে যাবে রাজধানী। তারা বলছেন, এই মানুষগুলো যেভাবে রাস্তায় নামছে, তাতে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সময়ই বলে দেবে।