মনিরুল হক রনি
সকাল থেকেই কালু মিয়ার মনে খুশি খুশি ভাব। অনেকদিন পরে শ্বশুরবাড়ি যাবেন। কতবার যাই যাই করেও আর যাওয়া হয়নি ছুটির অভাবে। গত ঈদেও শ্বশুরমশাই খুব করে বললেও যেতে পারেননি কালু মিয়া। তাই এত লম্বা ছুটিটা নষ্ট করতে চান না এবার। কিন্তু মুশকিল হলো যাবেন কিভাবে? চারিদিকে শুধু লকডাউন। গাড়িঘোড়াও নেই রাস্তায়। না থাক। হেঁটেই যাবেন শ্বশুরবাড়ি। মাত্র তো ২৫ কি ৩০ কিলোমিটার। এ আর এমন কী! এর চেয়ে কত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন তিনি। যেই ভাবা সেই কাজ। ফোনে জানালেন শ্বশুরমশাইকে।
কিন্তু শ্বশুরমশাই পড়লেন মহা বিপাকে। চারদিকে করোনার ভয়। তার ওপর জামাইয়ের অ্যাজমা মানে শ্বাসকষ্টের সমস্যা। কে কী মনে করে আবার। অনেকদিন বাদে জামাই আসতে চাচ্ছে; না-ও করতে পারছেন না। একেবারে শাঁখের করাতের মতো অবস্থা। বিষয়টা শেয়ার করলেন স্ত্রীর সঙ্গে।
কী করলে সাপও মরবে না আবার লাঠিও ভাঙবে না। শাশুড়ি আবার চালাক মানুষ। বললেন, কোনো চিন্তা কইরো না, আমি ব্যবস্থা করমু। তুমি জামাইরে আইতে কও।
কালু মিয়া ইয়া বড়ো একখান কাতল মাছ, দুইটা মুরগি আর কিছু বাজার-সদাই নিয়ে হাজির হলেন শ্বশুরবাড়ি। যতই হোক অনেকদিন পরে শ্বশুরবাড়ি আসা। কিন্তু চক্ষু ছানাবড়া। গেটে লেখা—
‘করোনা সন্দেহে বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। কোনো অতিথি কিংবা আত্মীয়স্বজন ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।—আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ।’
