পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জনগণ নিশ্চিন্তে ভোগাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সার্বিক বিবেচনায় একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে ভোট গ্রহণ শেষে তিনি ইত্তেফাককে এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। তবে প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। দেশের কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন কারণে ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে প্রাণহানির তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের সময় মারা গেছে ১৪২ জন। ২০০৮ সালে মারা গেছে ২১ জন। ২০০১ মারা গেছে ২৪৮ জন। ১৯৯৬ সালে মারা গেছে ৪৫ জন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, দেশের ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজার ভোট কেন্দ্র ছিল। এরমধ্যে নোয়াখালিতে দুইটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়েছে। কিছু কিছু কেন্দ্রে তো দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা ছিল। স্বাভাবিকভাবে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায়নি।
নির্বাচনে সংগঠিত সংহিসতার তথ্য তুলে ধরে পুলিশ প্রধান বলেন, চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের একটি কেন্দ্রে অস্ত্র লুট হয়েছে। ভৈরবের একটি কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। নোয়াখালির দুটি কেন্দ্রে গন্ডগোলের চেষ্টা হয়েছে। একটি কেন্দ্রের ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনা ছাড়া সবখানেই শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উত্সবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে বলবো একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।
এরআগে গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। আইজিপি বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন এই কেন্দ্রে (ভিকারুননিসা নূন স্কুল কেন্দ্র, বেইলি রোড)। ভারত, কানাডা ও নেপালের পর্যবেক্ষকরা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি, তারাও স্বীকার করেছেন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ চলছে। নিরাপত্তার বিষয়ে আইজিপি বলেন, নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচনপরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা হয়েছে বলে ড. কামাল হোসেনের এমন অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আইজিপি বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কারণ, নির্বাচন শুরুর আগে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে, যেগুলো পূরণ করেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কোথাও কোন পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও নেই। পোলিং এজেন্ট যারা কেন্দ্রে এসেছেন তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু কেউ কেন্দ্রে না এলে, তাদের খুঁজে আনার দায়িত্ব আমাদের না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবকিছু শক্তভাবে পর্যেবেক্ষণ করছি। ইতিমধ্যে গুজব রটানো অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে, গুজব রটানো সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আপলোড হলে, যাচাই-বাচাই করে বিশ্বাস করবেন। কেননা, এ ধরনের গুজব সমাজে অতীতেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যতেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনের আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, মামলার এফআইআরে সব আসামির নাম থাকে না, তবে তদন্তে অনেক আসামির নাম আসে, তখন সেই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। তাই আমরা বলবো কোন পোলিং এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়নি বা বের করে দেয়া হয়নি।
