ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়ায় ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। দ্রুত সময়ে ভোট প্রদান করতে পেরে অনেকেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়ায় সন্তোষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভোটাররা বলেছেন, ইভিএমে ভোট নেয়ার প্রক্রিয়া সহজ, দ্রত ও স্বচ্ছ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তুমুল বাধার মুখে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল ইভিএমের মাধ্যমে বড় ধরনের ভোট চুরি সহজতর হয়। কিন্তু ইভিএমে ভোট দিয়ে ভোটারদের মন থেকে সেই সন্দেহ দূর হয়েছে। অনেকেই ইভিএমের প্রতি আস্থার কথা জানিয়েছেন সরাসরি।
রাজধানীতে অন্য আসনের ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন হলেও ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের লাইন ছিল ছোট, কোন কোন কেন্দ্রে লাইনই নেই।
ঢাকা-৬ ও ঢাকা-১৩ আসনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে ভোটারদের অনুভূতি ছিল আনন্দ ও বিরক্তি মেশানো। দ্রুত ভোট দেওয়া যায় বলে অনেকে যেমন খুশি তেমনি মেশিন নষ্ট বা ঠিক মত রিডিং না নেওয়ায় সময়ক্ষেপণের জন্য কেউ কেউ বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। শীতের দিন অনেকে ক্রিম দিয়ে এসেছেন হাতে। সেজন্য অনেকের আঙুলের ছাপ নেওয়ার সময় বিপত্তি দেখা গেছে। অনেকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এসে আঙুলের ছাপ দিয়েছেন।
মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসন এবং ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি ও বংশালের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসন। ঢাকা-১৩ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগের সাদেক খান ও বিএনপির আবদুস সালামের মধ্যে। আর ঢাকা-৬ আসনে মহাজোটের প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদ লাঙ্গল প্রতীকে এবং গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন।
সকাল আটটায় ভোট শুরুর সময় ঢাকা-১৩ আসনের জাফরাবাদ এলাকার ব্লুমিং চাইল্ড হাই স্কুল কেন্দ্রে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রায়ের বাজার কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রে ৬টি বুথে প্রথম এক ঘণ্টায় ১১০টি ভোট পড়তে দেখা গেছে। এ আসনের অন্যান্য কেন্দ্রেও ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের হার বেশ ভালো ছিল।
ঢাকা-১৩ আসনে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিহারি ক্যাম্প ও এর আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা। তাদের জন্য এ ভোট ছিল আনন্দময় অভিজ্ঞতা। দ্রুত ভোট দেয়া যাচ্ছে বলে সবাই বেশ খুশি।
সকাল ৯টায় ঢাকা-৬ আসনের সুরিটোলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়- মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট দিচ্ছেন। পুরুষদের জন্য ছিল আলাদা বুথ। ইভিএমের মাধ্যমে প্রথম ভোট নেওয়ায় অনেক ভোটার সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের সহায়তা নিচ্ছেন। কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানে সেনাবাহিনীর তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন কেন্দ্রে। তারা সহায়তা করেছেন সমস্যা মেটাতে।
