এক মার্কেট মালিকসহ পরিবারের তিনজন করোনা পজিটিভ। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন সবাই। কিন্তু এরই মধ্যে দোকানের ভাড়াটিয়ার কাছে ভাড়া নিতে গেলেন করোনা আক্রান্ত মার্কেট মালিক। লকডাউনে ব্যবসা না থাকায় ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন দোকানী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানীকে করোনা রোগী বানাতে অকস্মাৎ জড়িয়ে ধরে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন সেই মার্কেট মালিক। কক্সবাজার সদরের লিংকরোড় এলাকায় মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যার আগে ঘটা এ ঘটনাটি ‘টক অব দ্যা ডিস্ট্রিকে’ পরিণত হয়েছে।
অস্বাভাবিক ঘটনার জন্ম দেওয়া জাহাঙ্গীর আলম সদরের ঝিলংজার বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় বেরিয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আজ বুধবার (১৩মে) তাকে আইসোলেশনে নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবার ও জড়িয়ে ধরা দোকানীকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টিপু সুলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত দুদিন আগেই করোনা আক্রান্ত হন জাহাঙ্গীর আলমসহ তার পরিবারের তিন সদস্য। তাদের বাড়িটি লকডাউন করে তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ জাহাঙ্গীর লিংক রোড এলাকায় তার মার্কেটে এসে সালামত নামের এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে বকেয়া ভাড়া দাবি করেন। দোকানী সালামত টাকা দিতে কয়েকদিন সময় চান। এতে জাহাঙ্গীর ক্ষিপ্ত হয়ে সালামতকে ঝাপটে ধরে বলেন, ‘করোনায় আমিও মরব, তুইও মর। এ নিয়ে সালামতসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
আরো পড়ুন: পাঁচ মাসের শিশুসহ দাদি করোনায় আক্রান্ত
চেয়ারম্যান টিপু আরো জানান, খবর পেয়েই আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাঙ্গীরকে তিরস্কার করে দোকানী সালামতকে দ্রুত সাবান ও জীবাণুনাশক দিয়ে গোসল করার ব্যবস্থা করেছি। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের আরো তিন সদস্য ও জড়িয়ে ধরা দোকানী সালামতকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাদের।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ করোনায় আক্রান্ত হয়ে লকডাউন থাকার পর তা অমান্য করে মার্কেট মালিক জাহাঙ্গীর নিজের পাওনা আদায়ে গত দুইদিন ধরে মোটরসাইকেল এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন। যেখানে যেখানে তিনি গেছেন এখন সেসব জায়গায় তার আক্রান্ত হওয়ার কথা জেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
ইত্তেফাক/এএএম
