মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শ্রমিক সংকটে কম্বাইন হারভেস্টার কৃষকদের কাছে আশার আলো জাগিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে স্বল্প খরচে ও কম সময়ে কৃষকরা ধান কেটে গোলায় ওঠাতে পারছেন। এই মেশিনের সাহায্যে বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিত্সক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক আ ক ম ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফ। শুক্রবার মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শুভুল্যা গ্রামে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের সাহায্যে তিনি বোরো ধান কাটার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এ সময় জেলা কৃষি প্রকৌশলী (ডিডি অফিস) মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ মশিউর রহমান, উপসহকারী কৃষি অফিসার (ব্লক সুপারভাইজার) মো. আক্তারুজ্জামান, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. হুমায়ুন তালুকদার, উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. তোজাম্মেল হোসেন তালুকদার টিটুসহ এলাকার কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। শনিবার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মির্জাপুর উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ২১ হাজার হেক্টর যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। বোরো ধান কাটার মৌসুমে চলছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, লকডাউন ও ধান কাটা শ্রমিক সংকট। বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটা শ্রমিকরা মির্জাপুরে আসতে না পারায় কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ও কৃষি বিভাগ ৫০ ভাগ ভর্তুকি মূল্যে মির্জাপুরে গোড়াইল নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান, উফুলকী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম, থলপাড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমকে একটি করে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন প্রদান এবং আনাইতারা ইউনিয়নের কৃষক ইউনুছ আলীকে একটি রিপার মেশিন দিয়েছেন। এই কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের সাহায্যে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা স্বল্প খরচে ধান কাটতে, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে পারছেন। এতে করে সময় যেমন কম লাগছে সেই সঙ্গে খরচও অর্ধেক কমে গেছে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে পেরে কৃষকরাও খুশি।
