সবকিছুর মতোই পুরোপুরি বন্ধ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন। শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চগুলো জনমানবশূন্য। শহিদ মিনার, টিএসসি, শাহবাগ প্রতিটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রই নির্জন, সুনসান। করোনার ছোবলে একেবারেই থমকে গেছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। শুধু তাই নয়, টিভিতে যেসব নাটক প্রচারিত হয়, থমকে গেছে সে সবের স্যুটিং। এবারের ঈদে অনেক টিভি চ্যানেলকেই পুরোনো নাটক প্রচার করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পী-কলাকুশলীরাও রয়েছেন মহাসংকটে।
স্বাধীনতা দিবস, পহেলা মে, পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তী প্রতিটি বিশেষ দিনেই কোনো অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়নি। ছায়ানট, শিল্পকলা একাডেমি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এমন কয়েকটি হাতেগোনা প্রতিষ্ঠান ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
মার্চ মাস থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে সকল অনুষ্ঠান-উত্সব। সারাদেশেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্ধ হয়ে গেছে, সংগীত আসর, নাট্য প্রদর্শনী, চিত্র প্রদর্শনী, যাত্রাপালা ও বাউল গানের আসর। তাই জীবিকায় টান পড়েছে শিল্পী থেকে কলাকুশলীসহ সকলেরই। বিশেষ করে স্বল্পআয়ের শিল্পী, বাদ্যযন্ত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। এ পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসচ্ছল শিল্পী ও কলাকুশলীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ৬৪ জেলার ৫ হাজারের বেশি শিল্পীকে প্রদান করা হবে প্রায় ৮ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, মে মাস থেকেই করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসচ্ছল শিল্পীদের সহযোগিতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত সোমবারও ২০০ অসচ্ছল শিল্পীকে এই তহবিল থেকে সাহায্য প্রদান করা হয়। তবে সারাদেশ থেকে মোট ৫ হাজার শিল্পীকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি জেলা থেকে ৫০ জন আর ঢাকা মহানগর থেকে ১ হাজার ৫০০ জনকে এ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনে আরো সহযোগিতা বাড়ানো হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে জেলাপর্যায়ে এই তালিকা করা হয়েছে। এখানে বাউল, যন্ত্রসংগীতশিল্পী, নাট্যশিল্পী, নাটকের নেপথ্যের কুশলী, নৃত্যশিল্পী, সংগীত শিল্পীসহ সকল পর্যায়ের শিল্পী ও কুশীলবরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এমনকি স্থানীয় লেখকরাও আছেন এই তালিকায়। তবে শিল্পীরা আর্থিক সহায়তা পেলেও প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতোই আটকে আছেন দেশের চিত্রশিল্পীরা। একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে চিত্র প্রদর্শন গ্যালারিগুলো। এসব গ্যালারি সরাসরি ছবি বিক্রি করে থাকে। ফলে দেশের শিল্পীদের বিশেষ করে তরুণ শিল্পীদের বড়ো একটি অংশ মারাত্মক আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে দেশের গ্যালারিগুলোও।
এ প্রসঙ্গে গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, গত ফেব্রুয়ারির পর থেকেই গ্যালারি বন্ধ। বন্ধ ছবি বিক্রি। এ পরিস্থিতি কতদিন চলবে কেউ বলতে পারছে না। ফলে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে দেশের শিল্প গ্যালারিগুলো।
গ্যালারি শিল্পাঙ্গনের পরিচালক রুমী নোমান বলেন, করোনা ভাইরাসের ফলে আমাদের ছবি বিক্রি যেমন বন্ধ, তেমনি শিল্পীদের আয়ের পথও বন্ধ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন পথ সৃষ্টির প্রতি জোর দেন তিনি। বলেন, জুনে একটি দলবদ্ধ প্রদর্শনীর আয়োজন করবে গ্যালারি শিল্পাঙ্গন। এতে প্রবীণ, নবীন সব শিল্পীর কাজ স্থান পাবে।
