শহরের এক মার্কেট মালিক ও তার পরিবারের তিন সদস্য করোনা আক্রান্ত। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন সবাই। এরই মধ্যে দোকানের ভাড়াটিয়ার কাছে যান করোনা আক্রান্ত মার্কেট মালিক। লকডাউনে ব্যবসা না থাকায় ভাড়া দিতে অপারগ ছিলেন দোকানি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ ভাড়াটিয়াকে করোনা রোগী বানাতে অকস্মাত্ তাকে জাপটে ধরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন সেই মার্কেট মালিক। জেলা সদরের লিংকরোড এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে ঘটা এ ঘটনাটি ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্টে’ পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, অস্বাভাবিক এই ঘটনার জন্ম দেওয়া জাহাঙ্গীর আলম সদরের ঝিলংজার বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা। গতকাল বুধবার তাকে আইসোলেশনে নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবার ও জড়িয়ে ধরা দোকানিকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান টিপু সুলতান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই দিন আগেই করোনা আক্রান্ত হন জাহাঙ্গীর আলমসহ তার পরিবারের তিন সদস্য। তাদের বাড়িটি লকডাউন করে তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে হঠাত্ জাহাঙ্গীর লিংক রোড এলাকায় তাদের মার্কেটে এসে সালামত নামের এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে বকেয়া ভাড়া দাবি করেন। দোকানি সালামত টাকা দিতে কয়েক দিন সময় চান। এতে জাহাঙ্গীর ক্ষিপ্ত হয়ে সালমতকে জাপটে ধরে বলেন, ‘করোনায় আমিও মরব-তুইও মর!’ এ নিয়ে সালামতসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের আরো তিন সদস্য ও জড়িয়ে ধরা দোকানি সালামতকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, করোনায় আক্রান্ত হলেও মার্কেট মালিক জাহাঙ্গীর পাওনা আদায়ে গত দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন। যেখানে যেখানে তিনি গেছেন এখন সেসব জায়গায় তার আক্রান্ত হওয়ার কথা জেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
