মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ১৩ মে ২০২০, ২৩:১৯

আজ ২০ রমজান।  আজকের সূর্য অস্ত গেলে আসবে ২১ রমজান। শুরু হবে মাহে রমজানের দোজখের আগুন থেকে মুক্তির দশক, যা শওয়ালের চাঁদ দেখা পর্যন্ত বলবত্ থাকবে। রমজানের শেষ দশকে রয়েছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম রজনী লাইলাতুল কদর। প্রিয় নবি (স.) সরকারে দোআলম নুরে মাজাসসম হজরত মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ মসজিদুন নববিতে তওবার খুঁটির পাশে তাঁবু খাঁটিয়ে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ শব্দের অর্থ একটি স্থানে অবস্থান করা। ইতিকাফ বলতে বোঝায় অধ্যাত্মিক অনুধ্যান ও অনুশীলনের জন্য নির্জনে অবস্থান গ্রহণ।     রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার প্রধান কারণ লাইলাতুল কদরকে পাওয়ার স্পৃহা।

সুফিয়ারে কেরাম ইতিকাফের ওপর খাস গুরুত্ব আরোপ করেছেন। যুগশ্রেষ্ঠ সুফি কুতবুল আলম হজরত মাওলানা শাহসুফি আলহাজ তোয়াজউদ্দীন আহমদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন, ইতিকাফ হালতে শবে কদরকে একান্ত নিকট থেকে অবলোকন করা যায়। ২০ রমজানের সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিকাফের সময় গোনা শুরু হয়। জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে ইতিকাফের সময় শেষ হয়ে যায়। ইতিকাফ অবস্থায় সাংসারিক কাজকর্ম করা, হাটবাাজর করা, কেনাকাটা প্রভৃতি করা যায় না। দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা যায় না। প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজনে এবং অপরিহার্য গোসল করার প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য ইতিকাফস্থল থেকে বাইরে গিয়ে দ্রুত কর্ম সম্পন্ন করে ত্বরিত ইতিকাফস্থলে ফিরে আসতে হবে। মেয়েরা আপন গৃহে পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নির্জনবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে ইতিকাফ করতে পারেন। রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া।

অতএব, কোনো পাড়া বা মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ না হলে সেই মহল্লার অধিবাসীগণ গোনাহগার হয়ে যাবেন। আর সেই মহল্লার বা পাড়ার এক জনও যদি ইতিকাফ করেন, তাহলে সবাই তার সমান সওয়াব পেয়ে যাবেন। সিয়ামের রাতে স্ত্রীগমন বৈধ হলেও ইতিকাফ অবস্থায় রাতে স্ত্রীগমন করা নিষিদ্ধ। ইতিকাফ অবস্থায় জিকর-আজকার মুবাকা-মুশাহাদা, কোরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইসতিগফার, দরুদ শরিফ ইত্যাদি করার মাধ্যমে দিন-রাত গুজরান করতে হয়।

হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশকে  ইতিকাফ করবে, তার জন্য তা হবে দুটো হজ ও দুটো উমরা পালন করার সমতুল্য (বায়হাকি)।

লেখক :পির সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ