সিলেটে মার্কেট-বাজারে উপচে পড়া ভিড় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

আপডেট : ১৩ মে ২০২০, ২৩:৩৪

সিলেট বিভাগে প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে মার্কেট ও হাট-বাজারে অসম্ভব ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। কেউবা জীবিকার তাগিদে, কেউ সামান্য কাজের অজুহাতে বের হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে হাটে-বাজারে এখন মানুষ আর মানুষ। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্র জানায়,  সিলেট জেলায় ৮৮, সুনামগঞ্জে ৬৩, হবিগঞ্জে ১১৭ ও মৌলভীবাজার জেলায় ৪৮ জন রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২৫ জন। বিভাগে করোনাকে জয় করে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৪৭ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন ১ হাজার ৪৪১ জন।

গত শুক্রবার সিলেট সিটি করপোরেশন ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসায়ীরা সর্বসম্মতিক্রমে সিলেটের সকল মার্কেট-শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তকে নগরবাসী সাধুবাদ জানান। সিলেট বিভাগের অপর তিন জেলার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও একই সিদ্ধান্ত নিয়ে শপিংমল ও দোকান পাট বন্ধ রেখেছেন।

কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের এক দিন পরই রবিবার সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন নগরীর ‘হাসান মার্কেট’ খুলে বসেন এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। আর সেখানে গত চার দিন থেকে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো। এতে আন্যান্য মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল অসন্তুোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসন ও সিসিক মেয়রকে উদ্যোগী হয়ে হাসান মার্কেট, লালদীঘির পাড়ের মার্কেটসহ আরো কতিপয় মার্কেট বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর হাসান মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। একই অবস্থা লালদীঘিরপাড়স্থ হকার্স মার্কেটের। এসব মার্কেট এমনিতেই ঘিঞ্জি। স্থান সংকুলান হয় না। কোনো ভাবেই  সেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু নারী-পুরুষ ভিড় করে ঈদের কেনাকাটা করছেন।

মার্কেটের দোকানগুলো খোলার বিষয়ে লালদীঘি (পুরাতন) হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ কবির আহমদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তারা বৈঠক করে দোকান বন্ধ রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যবসায়ী তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, সরকারের শিথিলতা থাকায় কঠোর হওয়া যাচ্ছে না। মার্কেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা কোনোরকম স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখার কথা বললেও তা কেউ রাখছেন না।