প্রতিদিন ৬ হাজার শিশু মারা যেতে পারে

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ০০:৪৯

 

জরুরি পদক্ষেপ না নিলে কোভিড-১৯-এর প্রভাবে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সি অতিরিক্ত ৬ হাজার শিশু মারা যেতে পারে। শুধু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরো কমে গেলে আগামী ছয় মাসে মহামারির পরোক্ষ প্রভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সি অতিরিক্ত ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এই মহামারি যাতে শিশুদের জন্য একটি স্থায়ী সংকটে রূপ নিতে না পারে সেজন্য রিইমাজিন নামে একটি বৈশ্বিক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে ইউনিসেফ। গতকাল বুধবার নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ইউনিসেফ।

বাংলাদেশে মহামারির কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৯ সালের মার্চের তুলনায় ২০২০ সালের মার্চে সেবা গ্রহণ ২৫ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, ‘এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধযোগ্য ও আরোগ্য লাভ করা সম্ভব এমন অবস্থা থেকে হাজার হাজার শিশু মারা যেতে পারে।’ ইউনিসেফ বলছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি প্রায় ১৯ শতাংশের মতো কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সন্তান জন্মদান ২০১৯ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় এবার জানুয়ারি-মার্চে ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মহামারির কারণে বাংলাদেশে হাম ও রুবেলের টিকাদান ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে ৯ মাস থেকে ৯ বছর বয়সি ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল। লকডাউনের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেগুলাতে টিকা পরিবহনও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার ভিত্তিতে শিশু মৃত্যুর আনুমানিক এই পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। মহামারি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় উপনীত হলে ১১৮টি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্ন হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সি অতিরিক্ত ১২ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে। এসব দেশে একই সময়ে যে ১৪ লাখ ৪ হাজার প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয় তার সঙ্গে আরো ৫৬ হাজার ৭০০ প্রসূতির মৃত্যু যোগ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘এবারই প্রথম পঞ্চম জন্মবার্ষিকীর আগে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।’ মহামারির সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ কমে যাওয়ার ফলে যে ১০টি দেশে সর্বাধিকসংখ্যক অতিরিক্ত শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হলো— বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, উগান্ডা ও তাঞ্জানিয়া।